Header AD

জিএসটি নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য তরজা: নির্মলার কটাক্ষ খণ্ডনে তালিকা প্রকাশ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের

মঙ্গলবার লোকসভায় তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)নিজের বক্তব্যকে কেন্দ্রের নতুন জিএসটি নীতিকে কটাক্ষা করেন। তাঁর সেই বক্তব্যকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। মঙ্গলবার তাঁর ভাষণে উত্থাপিত একাধিক দাবি বুধবার খারিজ করে দেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ (Nirmala Sitaraman)। তিনি অভিযোগ করেন, অভিষেক নাকি ইচ্ছাকৃত ভাবে তথ্য ‘বিকৃত’ করছেন। বিশেষ করে দুধ, শিশুর ডায়াপার এবং শিক্ষাসামগ্রীর উপর জিএসটি আরোপের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব পণ্যে কোনও কর নেওয়া হয় না।
তবে বৃহস্পতিবার সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীকে এর পাল্টা বিস্তারিত জবাব দেন অভিষেক। নির্মলার ‘তথ্য বিকৃতি’র অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি পণ্যভিত্তিক করের হার উল্লেখ করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন।

তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, তাঁর বক্তব্য মন দিয়ে শোনার জন্য অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ । একই সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির বিষয়েও একই গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল বলেও অভিমত পোষণ করেন। তিনি লেখেন, “পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কথাও যদি উনি এত মন দিয়ে শুনতেন, ভাল হত। উনি বলেছেন, আমি সত্য বিকৃত করেছি। এখন ওঁর জন্য সেগুলি আবার অবিকৃত করছি।”

বাজেট নিয়ে জবাবি ভাষণে দুধের জিএসটি প্রসঙ্গে নির্মলা জানান, জিএসটি চালুর পর থেকেই তরল দুধ করমুক্ত। এর পাল্টা যুক্তিতে অভিষেক বলেন, খোলা তরল দুধে কর না থাকলেও গুঁড়ো দুধে পাঁচ শতাংশ জিএসটি ধার্য রয়েছে। আর্থিকভাবে দুর্বল বহু পরিবারই গুঁড়ো দুধ কিনতে বাধ্য হন— সেই বাস্তবতাই তিনি তুলে ধরতে চেয়েছেন বলেও দাবি তাঁর।

শিক্ষাক্ষেত্র নিয়েও দুই পক্ষের মতবিরোধ স্পষ্ট। নির্মলা জানান, প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষা এবং বই-খাতা জিএসটি মুক্ত। অভিষেকের বক্তব্য, পাঠ্যবইয়ে কর না থাকলেও গ্রাফ পেপার, ল্যাবরেটরি নোটবুক বা রঙ-পেন্সিলের মতো প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রীতে ১২ শতাংশ পর্যন্ত জিএসটি নেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও একই বিতর্ক। অর্থমন্ত্রীর দাবি, চিকিৎসা পরিষেবায় জিএসটি নেই। জবাবে অভিষেক বলেন, চিকিৎসা পরিষেবা করমুক্ত হলেও অক্সিজেন সিলিন্ডারে ১২ শতাংশ, ইনসুলিনে পাঁচ শতাংশ এবং অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত অ্যানাস্থেশিয়ায় ১২ শতাংশ জিএসটি ধার্য রয়েছে।

শেষকৃত্যের খরচ নিয়েও তর্ক থামেনি। নির্মলা জানান, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় জিএসটি নেই। অভিষেকের বক্তব্য, অন্ত্যেষ্টিতে ব্যবহৃত ধূপকাঠির উপর পাঁচ শতাংশ জিএসটি নেওয়া হয়, যা সাধারণ মানুষের ব্যয়ের উপরই প্রভাব ফেলে। অভিষেক বলেছেন, “শেষযাত্রায় জ্বালানোর মতো ধূপকাঠিতে পাঁচ শতাংশ জিএসটি নেওয়া হয় এই নতুন ভারতে।” নিজের পোস্টের সঙ্গে এদিন একটি তালিকাও প্রকাশ করেন অভিষেক, যেখানে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের জিএসটি হার উল্লেখ করা হয়েছে— যেমন গুঁড়ো দুধে ৫%, শিশুর ডায়াপারে ১৮%, পেন্সিল-ক্রেয়নে ১২%, শিক্ষাসামগ্রীতে ১২%, ব্রডব্যান্ড পরিষেবায় ১৮%, ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীতে ৫% এবং ধূপকাঠিতে ৫%। পাশাপাশি পেট্রল ও ডিজেলের উপর লিটার প্রতি যথাক্রমে ১৯.৯ টাকা ও ১৫.৮ টাকা করের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে জিএসটি নিয়ে কেন্দ্র ও বিরোধী শিবিরের এই জবাব পাল্টা জবাবে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিয়েছে। অভিষেকের দাবি, “জিএসটি আইনে কী লেখা আছে এবং দরিদ্র পরিবারের মুদিখানার বিলে কী লেখা আছে, তার তফাত যত দিন না আপনি বুঝতে পারছেন, তত দিন আপনি অন্য ভারতেই থাকবেন, আমরা অন্য ভারতে।”