Header AD
Trending

‘বন্দে মাতরম’ বিতর্কে কেন্দ্রকে আক্রমণ তৃণমূলের, বঙ্কিমচন্দ্রকে সামনে এনে রবীন্দ্রনাথকে খাটো করার অভিযোগ

‘বন্দে মাতরম’ সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাল তৃণমূল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের দুই মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও ব্রাত্য বসু একাধিক ইস্যুতে বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন। তাঁদের অভিযোগ, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের গৌরবান্বিত করতে গিয়ে আসলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে খাটো করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্তার বিরুদ্ধে ফের সরব হন তাঁরা।

এদিন সাংবাদিক বৈঠকে ব্রাত্য বসু বলেন, বঙ্কিমচন্দ্রের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা নিয়ে তাঁদের কোনও আপত্তি নেই। তবে তাঁর দাবি, এই উদ্যোগের আড়ালে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রবীন্দ্রনাথকে ছোট করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, কিছু হিন্দু সাম্প্রদায়িক সংগঠন রবীন্দ্রনাথকে কখনওই সেভাবে গ্রহণ করেনি, কারণ তিনি ছিলেন ধর্মনিরপেক্ষ এবং সারাজীবন সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের ঐক্যের কথা বলেছেন। ব্রাত্যর কথায়, “কয়েক মাস এই নির্দেশিকা নিয়ে প্রচার চলবে। কিন্তু আগামী দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের মুখ্যমন্ত্রী হলে এর আর কোনও গুরুত্ব থাকবে না।”

এদিন বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর হামলার ঘটনাতেও কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ করেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী। পুণেতে বাংলায় কথা বলার কারণে পুরুলিয়ার শ্রমিক সুখেন মাহাতোর হত্যার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ব্রাত্য বসু। তাঁর অভিযোগ, “বাংলা ও বাঙালির বিরুদ্ধে একপ্রকার বিদ্বেষমূলক মনোভাব তৈরি করা হচ্ছে। সমাজের পিছিয়ে থাকা মানুষদের জীবনকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।” তিনি কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে নিশানা করেন বলেন, “বাংলা ও বাঙালির বিরুদ্ধে আপনারা যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। পরিযায়ী শ্রমিকদের মতো দরিদ্র, সমাজের পিছিয়ে থাকা আদিবাসী, তফসিলি জাতি-উপজাতি ভাইদের জীবনের দাম দেন না। এসব কেন করছেন? একদিন বাংলা আপনাদের উপর রাজত্ব করেছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বামী বিবেকানন্দ, সুভাষচন্দ্র বসুরা আপনাদের মাথার উপর ছিল। তাই আপনাদের এই বাংলা বিদ্বেষ।”

উল্লেখ্য বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে ছিল নির্বাচন। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের নির্বাচনী হিংসা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে ব্রাত্য বসু সরাসরি মন্তব্য করতে চাননি। তবে বিজেপির অভিযোগের জবাবে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “অন্য দেশের বিষয়ে কিছু বলা উচিত না। কিন্তু বিজেপি যদি বাংলাদেশের জামাতের মধ্যেও তৃণমূলকে খুঁজে পায়, তাহলে তো দু’দিন পর বলবে, মাদুরো অপহরণের পিছনেও তৃণমূল রয়েছে।”

অন্যদিকে, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও এদিন প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে বলেন, “লোকসভায় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে (Bankim Chandra Chattopadhyay) ‘বঙ্কিমদা’ বলে সম্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। যেন চায়ের দোকানে বসতেন! সেই ক্ষতে প্রলেপ দিতেই এই নির্দেশিকা।” সব মিলিয়ে ‘বন্দে মাতরম’ ইস্যুকে ঘিরে রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হল।