Header AD

সাইবার অপরাধ দমনে নতুন উদ্যোগ, নবান্নের ছাড়পত্রে লালবাজারে চালু সাতটি বিশেষ শাখা

সাইবার জালিয়াতি দিন দিন সংগঠিত অপরাধের রূপ নেওয়ায় তা তদন্তকারী সংস্থার কাছে বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে। ভুয়ো সিম পাচার, দেশের নানা প্রান্তে নকল কল সেন্টার চালানো, ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে বিদেশে প্রতারণার টাকা পাঠানো কিংবা সমাজমাধ্যমে গুজব ছড়ানো—সব মিলিয়ে অপরাধের ধরন যেমন বদলেছে, তেমনই বেড়েছে তার ব্যাপ্তি। এই পরিস্থিতিতে সাইবার অপরাধকে আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখছে পুলিশ। সেই লক্ষ্যেই এবার বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নবান্নের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর লালবাজারে পুলিশের সাতটি বিশেষ সাইবার শাখা চালু হতে চলেছে।

লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, এই শাখাগুলির পরিকাঠামো আগেই তৈরি থাকলেও প্রশাসনিক অনুমোদনের অভাবে কাজ শুরু করা যায়নি। এবার সেই বাধা কাটল। ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশ নতুন একটি হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছে। নবান্নের অনুমতি পাওয়ার পর সেই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নতুন এই সাইবার শাখাগুলি। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, মোট সাতটি শাখার মধ্যে লালবাজারের সাইবার থানার পাশাপাশি অর্গানাইজড সাইবার ক্রাইম, সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড সাইবার সেফটি, সাইবার ফ্রড রিকভারি, সাইবার ফরেনসিক ল্যাবরেটরি, সাইবার ক্রাইম কো-অর্ডিনেশন অ্যান্ড সাপোর্ট এবং সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং সেল রাখা হয়েছে। অর্গানাইজড সাইবার ক্রাইম সেকশনে আপাতত চারজন ইন্সপেক্টর থাকছেন, আর বাকি শাখাগুলিতে দু’জন করে ইন্সপেক্টর নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁদের অধীনে থাকবেন সাব-ইন্সপেক্টর ও অন্যান্য পুলিশকর্মীরা।

অর্গানাইজড সাইবার ক্রাইম শাখা মূলত সংগঠিত সাইবার অপরাধের উপর নজর রাখবে। ভুয়ো কল সেন্টার থেকে বিভিন্ন ভুয়ো পরিচয়ে ফোন করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া, জালিয়াতির কাজে ব্যবহারের জন্য এজেন্টদের মাধ্যমে ভুয়ো সিম কার্ড সংগ্রহ ও পাচার, লগ্নির টোপ বা ডিজিটাল গ্রেপ্তারির মতো নতুন ধরনের প্রতারণা—সবকিছুই এই শাখার নজরে থাকবে। সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড সাইবার সেফটি শাখা নাগরিকদের মধ্যে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে ধারাবাহিক প্রচার চালাবে। কেউ যদি সাইবার জালিয়াতির শিকার হয়ে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা হারান, তা হলে অল্প সময়ের মধ্যে, অর্থাৎ ‘গোল্ডেন আওয়ার’-এর মধ্যে পুলিশকে জানালে সেই টাকা ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু করবে সাইবার ফ্রড রিকভারি শাখা।

অপরাধীদের মোবাইল, ল্যাপটপ ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস থেকে তথ্য উদ্ধার এবং প্রযুক্তিগত সূত্র ধরে অপরাধীর খোঁজ পেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে সাইবার ফরেনসিক ল্যাবরেটরি। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, সাইবার জালিয়াতরা শুধু দেশের বিভিন্ন শহর থেকেই নয়, কম্বোডিয়া, মায়ানমার বা নেপালের মতো দেশ থেকেও প্রতারণা চালাচ্ছে। সে কারণে বিভিন্ন শহরের পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়ের পাশাপাশি প্রয়োজনে ইন্টারপোল-এর সাহায্য নিয়ে অপরাধীদের খোঁজ চালাবে সাইবার ক্রাইম কো-অর্ডিনেশন অ্যান্ড সাপোর্ট শাখা। একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়ানো বা এই মাধ্যম ব্যবহার করে কারও ক্ষতি করা হচ্ছে কি না, তা নজরে রাখতে সক্রিয় থাকবে সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং সেল। সব মিলিয়ে, সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এই নতুন উদ্যোগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে পুলিশ মহল।