Header AD
Trending

এক সেশনের ধসেই স্বপ্নভঙ্গ বাংলার; কল্যাণীতে ইতিহাস গড়ে রনজি ফাইনালে জম্মু-কাশ্মীর

গ্রুপ পর্বে দাপট, কোয়ার্টার ফাইনালে ইনিংস জয়—যেন এক্সপ্রেস গতিতে এগচ্ছিল বাংলা। ঘরের মাঠ কল্যাণীতে সেমিফাইনাল। প্রতিপক্ষ জম্মু-কাশ্মীর। কাগজে-কলমে সব সুবিধাই বাংলার পক্ষে। কিন্তু ক্রিকেট যে কতটা নিষ্ঠুর হতে পারে, তার প্রমাণ মিলল মাত্র দু’ঘণ্টার এক সেশনে। দ্বিতীয় ইনিংসে ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ে ৯৯ রানে অলআউট হয়ে গেল বাংলা। তাতেই গোটা মরসুমের ভালো পারফরম্যান্সে জল ঢেলে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হল তাদের। অন্য দিকে, ইতিহাস গড়ে প্রথমবার রনজি ট্রফির ফাইনালে পৌঁছে গেল জম্মু-কাশ্মীর।

প্রথম ইনিংসে সুদীপ ঘরামির শতরানে বাংলা তোলে ৩২৮ রান। জবাবে জম্মু-কাশ্মীর ৩০২ রান করলেও একাই ৮ উইকেট নিয়ে ২৬ রানের লিড এনে দেন মহম্মদ শামি। ম্যাচ তখনও বাংলার হাতেই ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে শুরু থেকেই ধস। অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরণ ৫ রানে ফিরলেন। সুদীপ চট্টোপাধ্যায়, সুদীপ ঘরামি—দু’জনেই শূন্য। অনুষ্টুপ মজুমদার (১২), সুরজ সিন্ধু জয়সওয়াল (১৪), সুমন্ত গুপ্ত (৮), হাবিব গন্ধী (১০)—কেউই দায়িত্ব নিলেন না। সর্বোচ্চ ২৪ করলেন শাহবাজ় আহমেদ। তাতেও রক্ষা হল না। চতুর্থ ইনিংসে জম্মু-কাশ্মীরের লক্ষ্য দাঁড়াল মাত্র ১২৬ রান।

বুধবার জম্মু-কাশ্মীরের জয়ের জন্য দরকার ছিল ৮৩ রান, হাতে ৮ উইকেট। সকালে শামি দু’টি উইকেট তুলে নেওয়ায় সামান্য আশা জেগেছিল। কিন্তু বংশরাজ শর্মা (৪৩) ও আবদুল সামাদ (৩০) শান্ত মাথায় ম্যাচ শেষ করেন। ৬ উইকেটে জয় এবং ইতিহাস। এই ম্যাচে জম্মু-কাশ্মীরের পেসার আকিব নবি নেন মোট ৯ উইকেট। বাংলার আকাশ দীপ ৩ উইকেট পেলেও ফল বদলায়নি।

আরও একটা মরসুম, আরও একবার স্বপ্নভঙ্গ। গ্রুপে দুরন্ত, নকআউটে গিয়ে ভেঙে পড়া, এ যেন বাংলার ঘরোয়া ক্রিকেটের চেনা ছবি। শামির মতো তারকা বোলারের আগুনে পারফরম্যান্সের পরেও যদি দল ৯৯ রানে গুটিয়ে যায়, তবে প্রশ্ন উঠবেই। নকআউটে নেতৃত্ব ও মানসিক দৃঢ়তা—এই দুই জায়গাতেই বারবার ফেল করছে বাংলা। অন্য দিকে, ক্লাব ক্রিকেটের সুযোগ কম থাকা সত্ত্বেও পারশ ডোগরার নেতৃত্বে জম্মু-কাশ্মীর দেখিয়ে দিল সাহস আর শৃঙ্খলা থাকলে বড় দলকেও হারানো যায়। কল্যাণী থেকে তারা ফিরল ইতিহাস লিখে, আর বাংলা রইল হতাশার ভার নিয়েই।