পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভির বিরুদ্ধে ফের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা বিশ্বজয়ী ক্রিকেট অধিনায়ক ইমরান খান। ২০২৩ সাল থেকে কারাবন্দি ইমরানের অভিযোগ, জেলেই তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র চলছে।
ইমরানের দুই বোন উজ়মা খান ও আলিমা খান সাংবাদিক বৈঠকে দাবি করেছেন, দাদার সঙ্গে তাঁদের দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। তাঁদের বক্তব্য, জেল থেকেই ইমরান বার্তা পাঠিয়েছেন, তাঁর শারীরিক অবস্থা ক্রমশ খারাপ হচ্ছে এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। প্রকাশ্যে এসব কথা বলায় নকভির কাছ থেকে তাঁরা নিয়মিত হুমকি পাচ্ছেন বলেও অভিযোগ। যদিও নকভি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এই আবহেই ইমরানের একটি পুরনো ভিডিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে, যেখানে তিনি নকভিকে ‘চোর’ বলে আক্রমণ করেন। তাঁর দাবি, পাকিস্তানের ক্রিকেট ধ্বংস করার পাশাপাশি রাজনৈতিক ভাবেও তাঁর দলকে দুর্বল করা হয়েছে। এই সবই হচ্ছে সেনাপ্রধানের নির্দেশে।
২০২৩ সালের অগস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দি ইমরান। গত বছর ইসলামাবাদ হাই কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, সপ্তাহে দু’দিন পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। কিন্তু সেই নির্দেশ মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করে আদালত অবমাননার মামলা করেছেন আলিমা খান। বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন।
এর মধ্যে ইমরানের চোখের সমস্যাও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত মেডিক্যাল বোর্ড সম্প্রতি আদিয়ালা জেলে গিয়ে তাঁর পরীক্ষা করে। চিকিৎসকদের রিপোর্ট অনুযায়ী, ডান চোখে দৃষ্টিশক্তি অনেকটা কমলেও চিকিৎসার পরে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। রেটিনার ফোলাভাব কমাকে ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখছেন চিকিৎসকেরা। নিয়মিত আইড্রপ ও আরও কয়েকটি পরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক আসিম ইউসুফ মনে করেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তর করা প্রয়োজন। তবে তাঁকে সরাসরি পরীক্ষা করার অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছেন না বলেও জানান তিনি।
এই পরিস্থিতিতে ইমরানের স্বাস্থ্যের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফকে চিঠি লিখেছেন বিশ্বের ১৪ জন প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক। তালিকায় রয়েছেন সুনীল গাওস্কর, কপিল দেব, গ্রেগ চ্যাপেল, মাইকেল আথারটন, অ্যালান বর্ডার, মাইক ব্রিয়ারলি, ইয়ান চ্যাপেল, বেলিন্ডা ক্লার্ক, ডেভিড গাওয়ার, কিম হিউজ, নাসের হুসেন, ক্লাইভ লয়েড, স্টিভ ওয় ও জন রাইট।

চিঠিতে তাঁরা লিখেছেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ যাই হোক না কেন, ইমরান খান একজন কিংবদন্তি ক্রিকেটার ও বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। তাই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে তাঁর সঙ্গে আচরণ করা উচিত। দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসা, পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাৎ এবং তাঁর স্বাস্থ্যের স্বচ্ছ আপডেট দেওয়ার জন্য পাকিস্তান সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা। এখনও পর্যন্ত পাকিস্তান সরকারের তরফে এই চিঠি নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।





