আইনি নোটিশের পর এবার অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে বনগাঁ থানায় ও জেলার পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন তনয় শাস্ত্রী। ফলে বিপদ আরও বাড়ল টলিউড অভিনেত্রীর। মানহানিসহ ক্ষতিপূরণের দাবি ও অনুষ্ঠানের টাকা ফেরত চেয়ে আগেই মিমিকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন তনয়। এবার সরাসরি বনগাঁ থানা এবং বনগাঁ পুলিশ সুপারের কাছে অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলেন তনয়।
শুক্রবার বিকেলে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তনয়ের দাবি, ‘মিমি চক্রবর্তী আমাদের ক্লাবের অনুষ্ঠান করতে এসে ২ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা পারিশ্রমিক নিয়েছিলেন ৷ তিনি সঠিক সময় না আসায় তাঁর সেই টাকা ক্লাব ফেরত চেয়েছে। পাশাপাশি তাঁর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আমার যে সামাজিক সম্মানহানি ঘটেছে তার জন্য ২০ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়েছে৷ জনসমক্ষে এসে ক্ষমা চাইতে হবে। আমি ন্যায্য বিচার অবশ্যই পাব, আর সেই দাবি নিয়েই আমি পুলিশ সুপারের অফিসে গিয়েছিলাম। বনগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি। আমাদের অনুষ্ঠানে মিমি চক্রবর্তীকে আমি কোনও অসম্মান করিনি। ওঁর মিথ্যে মামলার জন্য আমাকে ১৪ দিন জেল হেফাজতে থাকতে হয়েছে ৷ তার বিচার আমি আদালত এবং প্রশাসনের কাছে চেয়েছি।” তনয় শাস্ত্রীর আরও বলেন, মিমি তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েছেন। আইনের উপরে তার পূর্ণ আস্থা আছে। তিনি সত্যের জন্য লড়াই করছেন। যদিও পুলিশে এফআইআর-এর আগে আইনি নোটিশ পাঠানো হয় যাদবপুরের প্রাক্তন সাংসদ তথা অভিনেত্রীকে।
উল্লেখ্য, বনগাঁর নয়াগোপালগঞ্জে যুবক সংঘ পরিচালিত বাৎসরিক অনুষ্ঠানকে ঘিরে শুরু হয় বিতর্ক। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা তনয় শাস্ত্রী তাঁকে হেনস্তা করেন, এই অভিযোগ তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হন মিমি। যদিও ক্লাব সদস্যদের দাবি, অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাঁদের বক্তব্য, নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পর মঞ্চে আসেন মিমি। রাত ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠানের অনুমতি ছিল। সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় মিমিকে মঞ্চ থেকে নামতে অনুরোধ করা হয় বলেই দাবি ক্লাব কর্তৃপক্ষের। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বনগাঁ থানায় হেনস্তার অভিযোগ দায়ের করেন মিমি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তনয় শাস্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে বনগাঁ মহকুমা আদালতে গোপন জবানবন্দি দেন অভিনেত্রী। বর্তমানে তনয় জামিনে মুক্ত। পুরো ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।





