সোমবার গভীর রাতে প্রকাশিত সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা ঘিরে তৈরি হল বড়সড় বিভ্রান্তি। প্রথমে তালিকা প্রকাশ হলেও তাতে কার নাম রয়েছে বা কতজন বাদ পড়েছেন—তা স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। মঙ্গলবার গভীর রাতে অবশেষে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে তালিকা দৃশ্যমান হয়। কিন্তু সেখানেই শুরু হয় আসল সমস্যা। তৃণমূলের দাবি, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)-এর নামের পাশেও বিবেচনাধীন স্ট্যাটাস দেখাচ্ছে। অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) নামের পাশে দেখানো হয় “Deleted”। সাধারণ মানুষ নিজের EPIC নম্বর দিয়ে স্ট্যাটাস চেক করতে গিয়ে দেখেন—প্রায় সকলের ক্ষেত্রেই দেখানো হচ্ছে “UNDER ADJUDICATION” অর্থাৎ ‘বিবেচনাধীন’। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সব মহলে শুরু হয় জোর চর্চা।
এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল (All India Trinamool Congress) গোটা বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। তাদের অভিযোগ, কমিশনের পোর্টালে গোটা রাজ্যের ভোটারদেরই ‘বিচারাধীন’ হিসেবে দেখানো হচ্ছে, যা সাধারণ ভোটারদের সন্দেহের মধ্যে ফেলছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় দলটি দাবি করে, এর ফলে প্রতিটি ভোটারকে অকারণে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করানো হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তৃণমূল লেখে ,‘আপনাকে হয়তো শুনানির জন্য ডাকা হয়নি, চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় হয়তো আপনার নামটা ছিল, আপনি হয়তো ম্যাপড ভোটার কিংবা আপনার কেস সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে মিটে গেছে—তা সত্ত্বেও এখন আপনি নিজেকে UNDER ADJUDICATION হিসেবে দেখতে পাবেন। পুরো বাংলাকে কমিশনের পোর্টালে বিবেচনাধীন ঘোষণা করে দিয়েছে। বাংলার প্রতিটি ভোটার এখন “UNDER ADJUDICATION”। ভ্যানিশ কমিশন এবং বিজেপি বাংলার পুরো ভোটার তালিকাকে সন্দেহভাজনে পরিণত করেছে।’ তৃণমূল অভিযোগ করে, ‘ওরা বাংলার প্রতিটি ভোটারকে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত দোষী হিসাবে দাগিয়ে দিতে চাইছে। ওরা যখন বলেছিল বাঁচতে চাই, বিজেপি তাই, তখন ওরা ঠিক এটাই বুঝিয়েছিল।’
গোটা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়, এটি সম্পূর্ণ প্রযুক্তিগত ত্রুটি। সার্ভার বা সিস্টেমজনিত সমস্যার কারণে কয়েক ঘণ্টা ভুল তথ্য প্রদর্শিত হয়েছে। দুঘণ্টার মধ্যে সমস্যা মিটে যায় বলেও দাবি কমিশনের। তবে তালিকা প্রকাশের ২৪ ঘণ্টা পরও অনেক জায়গায় তথ্য না পাওয়া, কিংবা ডাউনলোড করতে সমস্যা হওয়ায় পুরো বিষয়টি নিয়ে এখনও অসন্তোষ ও উদ্বেগ রয়ে গিয়েছে।





