Header AD

‘পুরোটাই অমিত শাহ ঘটিয়েছেন!’ মালদহের ঘটনায় সরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

cm suti

“টোটালটাই অমিত শাহ (Amit Shah) করিয়েছে। পুরোটা বিজেপির গেম প্ল্যান। ”বুধবার রাতে মালদহের ঘটনার জন্য কেন্দ্রীয় সরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সরাসরি দায়ী করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মুর্শিদাবাদের সুতিতে নির্বাচনী জনসভা করতে গিয়ে গোটা ঘটনার জন্য বিজেপি ও কমিশনকে একযোগে নিশানা করে কেন্দ্রীয় সরাষ্ট্র মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করলেন। এমনকি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য নির্বাচন কমিশনের উপরই দায় চাপিয়েছেন মমতা। উল্লেখ্য, এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় নাম অসংখ্য নাম বাদ যাওয়ায় কারণে বুধবার রাত থেকে অশান্ত মালদহের কালিয়াচক।

সাগরদিঘির পর বৃহস্পতিবার সুতির জনসভা থেকেও মালদহের ঘটনা নিয়ে সুর চড়ান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এদিন সভা মঞ্চ থেকে প্রশ্ন তোলেন,”মালদহে গন্ডগোল হল কেন? সবাইকে তো সরিয়ে দিয়েছেন। আমি গন্ডগোল সমর্থন করি না। আমি শান্তির পক্ষে। যাঁরা গন্ডগোল করিয়েছেন, তাঁরা আমাদের দলের নন। যাঁরা করিয়েছেন আমি জানি, কোন রাজনৈতিক দল।” এ প্রসঙ্গে কমিশনকে কটাক্ষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “রাজ্য সামলানো এত সহজ না। আমার হাতে আইন নেই এখন। আমার হাত থেকে সব ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে। যাঁরা এতদিন প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলেছেন, তাঁদের তামিলনাড়ু পাঠিয়ে দিয়েছে। নিজেদের লোক বসিয়ে পরিস্থিতি সামলাতে পারেনি। বিচারপতিদের নিরাপত্তা দিতে পারেনি। আপনাদের দায়িত্ব বাংলার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা। এর দায় আপনাদের নিতে হবে। এমন অপদার্থ নির্বাচন কমিশন আমি জীবনে দেখিনি। ” তিনি আরও বলেন, “নতুন ডিজি, সিএস আপনারা করেছেন, সিপি, এসপি আপনারা নিয়োগ করেছেন। আমার খারাপ লাগছে তাঁদের আজ শোকজ করা হল। কোথাকার কী জিওগ্রাফি, ডোমোগ্রাফি তাঁরা জানবে কী করে। এখন সব দোষ আমাদের?একটা ঘটনার জন্য গোটা রাজ্যের বদনাম করা হচ্ছে। ”

এরপরই বিজেপিকে কটাক্ষ করে তিনি গর্জে ওঠেন,”ওরা ধর্মে ধর্মে বিভাজন করে। কাজ করেনি একটাও। ১৫ লক্ষ টাকা করে দেবে বলেছিল। দেয়নি। এসআইআর করে ইলেকশনের আগে সর্বনাশ করল। চার দিকে ইডি রেড করাচ্ছে। ইলেকশনের আগে কেন? সব দিক দিয়ে চক্রান্ত করছে। অমিত শাহ-মোদীর দল গণতন্ত্রকে শেষ করে দেবে।” সভা থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে তিনি বলেন, “কারো প্ররোচনায় পা দেবেন না। সিবিআই, এনআইএ দিয়ে অ্যারেস্ট করিয়ে ভোটাধিকারটুকুও কেড়ে নেবে। ইলেকশন বাতিল করে দেবে। আপনারা কি সেটা চান? না চাইলে শান্তি বজায় রাখুন। মুর্শিদাবাদকে রক্ষা করুন।”

ভোটার তালিকায় নাম না ওঠায় বুধবার সকাল থেকেই মালদহের কালিয়াচক এলাকায় মানুষের ক্ষোভ বাড়ছিল। কিন্তু বেলা বাড়তেই পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নেয়। জনরোষ আছড়ে পড়ে এসআইআরের কাজে যাওয়া বিচারকদের উপর। যার জেরে রাতদুপুরে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে মালদহের কালিয়াচক। অভিযোগ, বিক্ষোভকারী জনতা দীর্ঘক্ষণ ধরে কালিয়াচক ২ বিডিও অফিসে আটকে রাখেন সাতজন জুডিশিয়াল অফিসারকে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মহিলা-সহ ৩ জন বিচারকও। শেষমেশ গভীর রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে বিশাল পুলিশবাহিনী। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক বিতর্ক। এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালেই সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। ঘটনাটিকে পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ বলেও মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের।