বাংলা রাজ্যটাই তুলে দিতে চায়। অনেক প্ল্যানিং করেছে। আপনাদের বিহারের সঙ্গে জুড়ে দেবে আবার। ময়নাগুড়ির নির্বাচনী জনসভা থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এই ভাষাতেই বিজেপির বঙ্গভঙ্গের চক্রান্ত ফাঁস করলেন। রাজ্যবাসীকে তাঁর আশ্বাস, তৃণমূল থাকতে তা কখনও সম্ভব নয়।
বিধানসভা নির্বাচনের আগে বুধবার থেকেই রাজ্যজুড়ে প্রচারে নেমেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ময়নাগুড়ির সভা থেকে তৃণমূল (Trinamool Congress) নেত্রীর অভিযোগ, “ক্ষমতায় এলে বিজেপি এবার দেশটাই বেঁচে দেবে”। তাঁর আরও অভিযোগ, “বাংলাকে বিহারের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলাকে আলাদা করার চেষ্টা হচ্ছিল, কয়েকদিন আগে সোশাল মিডিয়ায় প্ল্যানটা প্রকাশিত হয়ে গিয়েছিল। আমি জানতে পেরেই গর্জণ করেছি।”এরপরই সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে বলেন, “মানুষের স্বার্থে আমি রাস্তা থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত লড়াই করেছি, প্রয়োজনে আবারও করব।”
এদিনের নির্বাচনী জনসভা থেকে বিজেপি (Bharatiya Janata Party)-কে আক্রমণ করে একাধিক ইস্যু তুলে ধরেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নোটবন্দি, এনআরসি, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত অভিযোগ উল্লেখ করে বলেন, “নোটবন্দির লাইনের কথা মনে আছে? বিজেপি এত হিংসুটে দল যে আপনাদের অনেক মহিলাদের নাম কেটে দিয়েছে। মেয়েরা শ্বশুরবাড়ি গিয়েছে, স্বাভাবিকভাবেই পদবি বদলেছে। কিন্তু ওরা সব বাদ দিয়েছে। অনেক রাজবংশীকে বাদ দিয়েছে। কত মানুষকে এনআরসির নোটিস দিয়েছে। এসআইআরের লাইন দিয়ে ২২০ জন মারা গিয়েছে। ওদের আত্মা কাঁদছে। তোমাদের জবাব দিতে হবে।” এছাড়াও তিনি দাবি করেন, বহু মানুষ এনআরসি নোটিস পেয়েছেন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।
পেট্রোলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়েও এদিন কেন্দ্রকে কটাক্ষ করেন তিনি। বলেন, “আবার পেট্রোলের দাম বেড়েছে। সবকিছুর দাম বাড়ছে। কিন্তু এখন আমার হাতে কিছু নেই। আমার হাতে যা আছে তা হচ্ছে শুধু মানুষ।”
এদিন নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। ভোটার তালিকা প্রকাশ থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত—সব ক্ষেত্রেই বিজেপির প্রভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তৃণমূল নেত্রী। মধ্যরাতে সাপ্লিমেন্টরি তালিকা প্রকাশ থেকে শুরু করে কমিশনের নোটিফিকেশনে বিজেপির স্ট্যাম্প ব্যবহার নিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।





