Header AD

পুলিশের হাত ছাড়িয়ে পালাল বাংলাদেশি ‘অনুপ্রবেশকারী’ বন্দি! মুর্শিদাবাদ হাসপাতালে চাঞ্চল্য

পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পালাল এক বাংলাদেশি ‘অনুপ্রবেশকারী’ বন্দি। গত শুক্রবার দুপুরে বহরমপুরে কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের ওই বাংলাদেশি বন্দিকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শারীরিক পরীক্ষার জন্য আনা হয়েছিল। পরীক্ষার পর ফের তাকে প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় সুযোগ বুঝে পুলিশের ঘেরাটোপ থেকে পালিয়ে যায় ওই বন্দি। নাটকীয় ওই ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে। বাংলাদেশি পলাতকের নাম রবিউল ইসলাম। বহুদিন ধরে ভারতে অনুপ্রবেশ করে ঘোরাঘুরির অভিযোগে গত ছ’মাস আগে সে ধরা পড়েছিল। তারপর থেকেই আদালতের নির্দেশে ওই যুবককে জেলবন্দি করা হয়। এদিন শুনানি থাকায় তাকে আদালতে নিয়ে আসা হয়েছিল। এমন ঘটনায় জেল পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে৷ পলাতক বন্দির খোঁজে শুরু হয়েছে তল্লাশি ৷

হাসপাতালের অন্যান্য প্রতক্ষ্যদর্শীদের কথায় জানা গিয়েছে, শুক্রবার ফের আদালতে ওই ব্যক্তির মামলার শুনানি ছিল। সেজন্য অন্যান্য বিচারাধীন বন্দিদের সঙ্গে তাকেও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বহরমপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর ফের প্রিজন ভ্যানে বন্দিকে তোলার সময়ই বিপত্তি ঘটে। এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার ধৃতিমান সরকার বলেন, “সব থানায় ইতিমধ্যেই খবর পাঠানো হয়েছে ৷ বেশিদূর যেতে পারবে না ৷ দ্রুত তাকে হেফাজতে নেওয়া হবে ৷” এদিকে এখনও পর্যন্ত রবিউলের সঠিক কোনও হদিশ পাওয়া যায়নি ৷ পুলিশ সূত্রে খবর, তার বাড়ি বাংলাদেশের রাজশাহী জেলায়। বহরমপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ছ’মাস ধরে সামিউল ইসলাম কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে রাখা হয়েছিল।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের অভিযোগে রানিনগর থানার পুলিশ ছ’মাস আগে তাকে গ্রেফতার করেছিল৷ এদিন তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন ৷ এরপর ওই বন্দিকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়৷ কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় রবিউল-সহ আরও কয়েকজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তখন পুলিশের হাত ছাড়িয়ে ছুটে পালিয়ে যায় রবিউল ৷ ঘটনায় মাথায় হাত পড়েছে জেল পুলিশ ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অন্য কর্মীদের৷ সঙ্গে সঙ্গে তার পিছু ধাওয়া করলেও নাগাল পায়নি পুলিশ৷

এদিকে ওই প্রিজন ভ্যানে থাকা আরেক বন্দি জানায়, রবিউলের সাজা খাটা শেষ হয়ে গিয়েছে৷ কিন্তু তাকে বাংলাদেশে পুশ ব্যাক করা হচ্ছিল না৷ বাংলাদেশ প্রশাসনের তরফে তাকে এবং তার মতো অন্য বন্দিদের ফেরানোর কোনও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না৷ তাই রবিউল পালিয়ে গিয়েছে৷ ওই বন্দি বলেন, “বহরমপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে আরও অনেক বাংলাদেশি নাগরিক বন্দি হয়ে রয়েছে৷ তাদের অনেকের সাজার মেয়াদ সম্পূর্ণ হয়েছে ৷ কিন্তু কাউকে ফেরানোর কোনও খবর আসছে না৷ তাই বাংলাদেশ সীমান্তে নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দিচ্ছে না প্রশাসন ৷ সামনে ১২ তারিখ নির্বাচন৷ তারপর যদি কোনও ব্যবস্থা হয়৷” এই ঘটনা ঘটার ফলে প্রশ্ন উঠছে বিচারাধীন বন্দি এমনভাবে পুলিশের হাত ছাড়িয়ে পালাল কীভাবে? নিরাপত্তার এত ফাঁক থাকল কীভাবে?