Header AD

ডার্বির উত্তাপে ফুটছে বাংলা, আইএসএল খেতাবের ফয়সালা আজ যুবভারতীতে

EB vs MB

অনেক দিন পর আবারও কলকাতা ডার্বিকে (Kolkata Derby) ঘিরে তুঙ্গে উত্তেজনা। শুধু কলকাতা নয়, গোটা বাংলাই এখন ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান (East Bengal Vs Mohun Bagan) মহারণের অপেক্ষায়। ৬২ হাজার টিকিট আগেই শেষ। কারণ, এই ম্যাচ যে কার্যত আইএসএলের ফাইনাল (ISL2026)—তা বুঝতে কারও বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই।

দু’দলের হাতেই এখনও একটি করে ম্যাচ বাকি থাকলেও শেষ পর্বের সমীকরণ বলছে, রবিবারের ডার্বিই চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণ করতে চলেছে। ইস্টবেঙ্গলের শেষ প্রতিপক্ষ ইন্টার কাশী, যাদের কোচ আন্তোনিও হাবাস ইতিমধ্যেই বিদায় নিয়েছেন। পাশাপাশি আর্থিক সমস্যার জেরে ক্লাব ফিফার নিষেধাজ্ঞার মুখেও। অন্যদিকে মোহনবাগানের শেষ ম্যাচ এসসি দিল্লির বিরুদ্ধে, যারা তরুণ ফুটবলারদের নিয়ে গড়া দল এবং লিগে মাত্র ১১ পয়েন্ট পেয়েছে। ফলে ডার্বির গুরুত্ব যে বহুগুণ বেড়েছে, তা বলাই যায়।

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর তার প্রভাবও দেখা যাচ্ছে যুবভারতীতে। স্টেডিয়ামের মাথা থেকে আগের সরকারের ‘বিশ্ববাংলা’ লোগো সরিয়ে সেখানে বসানো হয়েছে অশোকস্তম্ভের প্রতীক। ডার্বি দেখতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ( Suvendu Adhikari) এবং ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিককে( Nisith Pramanik)। ক্রীড়ামন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেলেও মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি এখনও নিশ্চিত নয়। তবে নিরাপত্তায় কোনও খামতি রাখতে চাইছে না প্রশাসন। মাঠে ঢোকার আগে দর্শকদের পেরোতে হবে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রাজনৈতিক বা বর্ণবিদ্বেষমূলক বার্তা লেখা টিফো, এমনকি শব্দবাজিও গ্যালারিতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এদিকে ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাসী দুই দলের কোচই। ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজো ( Oscar Bruzon) স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, দেড় বছর আগে দায়িত্ব নেওয়ার সময় দল লিগ টেবিলের একেবারে তলায় ছিল। এখন সেই দলই শিরোপার দৌড়ে। তাঁর মতে, দলের মানসিকতার পরিবর্তনই সবচেয়ে বড় সাফল্য। তিনি বলেন, ফুটবলে শুধু কৌশল নয়, মানসিক শক্তিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে মোহনবাগান কোচ সের্জিও লোবেরা (Sergio Lobera) জানিয়েছেন, প্রতিপক্ষকে নিয়ে তিনি ভাবছেন না। তাঁর ভরসা নিজের দলের সামর্থ্যেই। অতিরিক্ত আবেগে না ভেসে ঠান্ডা মাথায় খেলাই তাঁদের লক্ষ্য।

দলগঠনের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যাও রয়েছে। কার্ড সমস্যার জন্য ইস্টবেঙ্গলের সৌভিক চক্রবর্তী খেলতে পারবেন না। চোটের কারণে বাইরে ক্রেসপোও। তবে মোহনবাগানে বড় কোনও সমস্যা নেই। আপুইয়া চোট সারিয়ে ফিরেছেন। যদিও আনোয়ার আলির খেলা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। কোচ ব্রুজো জানিয়েছেন, গুরুতর মাসল ইনজুরি নিয়েও আনোয়ার দলের স্বার্থে খেলতে প্রস্তুত, যা তাঁর মানসিক দৃঢ়তার পরিচয়।

দুই দলই এখন ২২ পয়েন্টে সমান। শুধু গোল পার্থক্যে এগিয়ে ইস্টবেঙ্গল। সেটাই তাদের একমাত্র বাড়তি সুবিধা। তবে ম্যাচের আগেই চাপ বাড়িয়ে দিয়েছেন মোহনবাগান সভাপতি দেবাশিস দত্ত। তাঁর মন্তব্য, “১১ জনে খেলা হলে মোহনবাগানই জিতবে, তবে অন্য দল যদি ১৪ জনে খেলে, তা হলে সমস্যা।” ইঙ্গিত যে রেফারিংয়ের দিকে, তা স্পষ্ট।

সবশেষে আবেগঘন বার্তাও দিয়েছেন তিনি। প্রয়াত প্রাক্তন মোহনবাগান সভাপতি টুটু বোসের ( Tutu Bose) স্মৃতির উদ্দেশে ম্যাচের আগে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হবে। দেবাশিস বলেন, ডার্বি জিতে আইএসএল শিরোপা তুলে ধরাই টুটু বোসকে প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো হবে ।