Header AD

সেলেব রাজনীতিতে ব্রেক, তৃণমূলের প্রার্থীতালিকায় চমকের ইতি! পুরনো মুখেই ভরসা রাখলেন মমতা-অভিষেক

২৯৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ২৯১টিতে প্রার্থী ঘোষণা করল তৃণমূল কংগ্রেস। বাকি তিনটি আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা (বিজিপিএম)-কে, যাদের নেতৃত্বে আছেন অনীতা থাপা। দার্জিলিং, কালিম্পং ও কার্শিয়াং—এই তিন পাহাড়ি কেন্দ্রে তারা একাই লড়ছে, এবং তাদের সমর্থন করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার কালীঘাটের বাসভবন থেকে এমনটাই জানালেন তৃণমূল নেত্রী।

আগের নির্বাচনগুলিতে তারকা প্রার্থীদের নিয়ে বারবার চমক দিয়েছে দল। যেমন মিমি চক্রবর্তী, নুসরত জাহান, কাঞ্চন মল্লিক—এদের মতো পরিচিত মুখকে প্রার্থী করা হয়েছিল। এমনকি গত লোকসভা ভোটে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ইউসুফ পাঠানকেও টিকিট দেওয়া হয়েছিল। এবারও নানা জল্পনা ছিল—ইমন চক্রবর্তী, শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায় বা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের মতো নতুন মুখ দেখা যেতে পারে বলে শোনা যাচ্ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই জল্পনা সত্যি হয়নি। বরং দল ভরসা রেখেছে অভিজ্ঞদের উপর। টিকিট পাননি কাঞ্চন মল্লিক ও চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী।

অন্যদিকে, কিছু পরিচিত মুখকে আবার প্রার্থী করা হয়েছে—বারাকপুরে রাজ চক্রবর্তী, বরানগরে সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজারহাট-গোপালপুরে অদিতি মুন্সি এবং চন্দননগরে ইন্দ্রনীল সেন। এছাড়া সোহম চক্রবর্তীকে এবার করিমপুর থেকে প্রার্থী করা হয়েছে। নতুন সংযোজন হিসেবে রয়েছেন শ্রেয়া পাণ্ডে, যিনি মানিকতলা কেন্দ্র থেকে লড়বেন। এই কেন্দ্রটি শ্রেয়ার বাবা প্রয়াত সাধন পাণ্ডের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবার তৃণমূল ‘তারকা চমক’ নয়, বরং কাজের ভিত্তিতে প্রার্থী বেছে নিয়েছে। এই অবস্থান আগেই স্পষ্ট করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অতীতে তারকা প্রার্থীদের নিয়ে দলকে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছিল। ক্ষোভ, অসন্তোষ এবং জয়ের পর কাজের অভাব নিয়ে অভিযোগও উঠেছিল।

সব মিলিয়ে, এবার তৃণমূল অনেক বেশি সতর্ক হয়ে প্রার্থী তালিকা তৈরি করেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।