কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court) রাজ্যের বিভিন্ন কলেজের সহকারী অধ্যাপকদের প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিয়েছে। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চ এই রায় দেন, কারণ নির্বাচন কমিশন (ECI) আদালতের কাছে এই নিয়োগের যৌক্তিক কারণ স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেনি।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বুথে বুথে দায়িত্ব পালনের জন্য কমিশন সহকারী অধ্যাপকদের প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। এমনকি তাঁদের জন্য আলাদা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। অনেকেই সেই প্রশিক্ষণ গ্রহণও করেছেন। তবে আদালত জানিয়েছে, যাঁরা ইতিমধ্যে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন বা নিচ্ছেন, তাঁরা চাইলে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। কিন্তু বাকিদের ক্ষেত্রে এই নিয়োগ আর প্রযোজ্য হবে না।
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একাংশ অধ্যাপক আদালতের দ্বারস্থ হন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, তাঁদের পদমর্যাদা ও বেতন অনুযায়ী দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়নি এবং কেন তাঁদের এই কাজে নিযুক্ত করা হচ্ছে, তার কোনও যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়নি।
শুনানির সময় আদালত নির্বাচন কমিশনের কাছে একাধিকবার ব্যাখ্যা চাইলেও তারা সন্তোষজনক উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও স্পষ্টভাবে জানান, কোনও সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই এমন নিয়োগ করা যায় না। সেই কারণেই কমিশনের জারি করা বিজ্ঞপ্তি বাতিল করা হয়েছে।
আদালত আরও জানায়, অধ্যাপকদের পদমর্যাদা ও বেতনের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে যদি অন্য কোনও উপযুক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়, তবে তাঁরা তা পালন করতে বাধ্য থাকবেন।
উল্লেখ্য, আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কমিশনের যুক্তি ছিল, বিপুল সংখ্যক বুথ পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত আধিকারিকের প্রয়োজন। তবে আদালত সেই যুক্তিকে গ্রহণ করেনি এবং স্পষ্ট করে দেয় যে, নিয়ম মেনে ও যথাযথ কারণ দেখিয়েই নিয়োগ করতে হবে।





