Header AD
Trending

পর্বত অভিযানেও দুর্নীতি! এভারেস্টে মৃতদের খুঁজতে টাকা দেননি অরূপ? বিস্ফোরক পিয়ালি

swarup piyali

মেসি-কাণ্ডে প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে সোমবারই তলব করেছে বিধাননগর পুলিশ। এই বিতর্কের আবহে এবার তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুললেন এভারেস্টজয়ী পর্বতারোহী পিয়ালি বসাক। তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ তৃণমূল সরকারের আমলে ‘এভারেস্ট দুর্নীতি’ হয়েছে। রবিবার তিনি দাবি করেন, তৃণমূল সরকারের আমলে পরিচালিত পর্বতারোহণ অভিযানে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছিল। শুধু তাই নয়, অভিযানে ব্যবহৃত তাবু, স্লিপিং ব্যাগ-সহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও ছিল খুবই নিম্নমানের। এই অভিযোগ সামনে আসতেই রীতিমতো হইচই শুরু হয়ে গিয়েছে বিভিন্ন মহলে।
রাজ্যে সরকার বদলের পর প্রায় প্রতিদিন তৃণমূল আমলের কোনও না কোনও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসছে। বহু নেতা-কর্মী গ্রেফতারও হয়েছেন ইতিমধ্যে। এবার পর্বতারোহণ ক্ষেত্রেও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তুললেন হুগলির চন্দননগরের বাসিন্দা পিয়ালি বসাক। আর এই দুর্নীতির মাথা বলে তিনি সরাসরি তোপ দাগলেন তৎকালীন যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে।
পিয়ালির অভিযোগ, ‘২০১৮ সালে রাজ্য সরকার একটি অভিযানের আয়োজন করে। সেই অভিযানে অংশগ্রহণকারীদের সমস্ত সরঞ্জাম সরকারি ব্যবস্থায় দেওয়া হয়েছিল। ১০ জন ছেলেকেও তাঁরাই নির্বাচন করেছিলেন। তৃণমূল সরকারের তরফে যে তাবু-স্লিপিং ব্যাগ দেওয়া হয়েছিল, সেসবের মান ছিল অত্যন্ত খারাপ। যার জেরে গুরুতর সমস্যার মুখে পড়তে হয় অভিযাত্রীদের।’
এখানেই না থেমে এরপর পিয়ালির মারাত্মক অভিযোগ, ‘মাত্র ২১ হাজার ফুট উচ্চতায় পৌঁছতেই পাঁচজনের ফ্রস্টবাইট হয়েছিল। তাঁদের হাত ও পায়ের আঙুল কেটে বাদ দিতে হয়। অরূপ বিশ্বাস তখন সামলাতেন এই বিভাগ। পর্বতারোহীদের নিয়ে যে কমিটি তৈরি হয়েছিল তাতে ছিলেন-দেবদাস নন্দী, সত্যরূপ সিদ্ধান্ত, দেবরাজ দত্ত, উজ্জ্বল রায়। এই কমিটির সদস্যদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’
এরপর আরও বিস্ফোরক অভিযোগ করেন পিয়ালি। তাঁর কথায়, “পাহাড়ে তো অনেকে নিখোঁজ হন বা মারা যান। ছন্দা গায়েন, দীপঙ্কর ঘোষ, গৌতম ঘোষ, পরেশ নাথ, সুভাষ নাথদের মতো মানুষদের আমরা হারিয়েছি। এদের খুঁজতে রাজ্য সরকার এক-একজন পিছু ২ কোটি টাকা দিয়েছিল। কিন্তু নেপালের সংশ্লিষ্ট এজেন্সির দাবি, তারা সেই টাকা পায়নি। তাহলে সেই অর্থ কোথায় গেল?’
বিভিন্ন সময়ে এই বিষয়গুলি তৎকালীন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে জানালেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন পিয়ালি। মন্ত্রীর দেহরক্ষীরা তাঁকে বার করে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ তাঁর।
এছাড়া ২০১৯ সালে এভারেস্ট অভিযানের সময় তাঁর উপর হামলার অভিযোগও তুলেছেন পিয়ালি। তাঁর কথায়, “২০১৯ সালে এভারেস্ট সামিটের সময় একজন শেরপা আমায় মেরেছে। ওই কমিটির লোকজন আমাকে শীর্ষে ওঠা থেকে আটকাতে শেরপাকে টাকা খাইয়ে ২৮ হাজার ফুট উচ্চতায় আমাকে মারে। আমার জিনিস-পত্র ওই শেরপা বিদেশিদের দিয়ে দিত। এরপরও চূড়ায় পৌঁছেছি আমি।’
তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা প্রশাসনিক বা আইনি তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। অরূপ বিশ্বাস বা সংশ্লিষ্টদের তরফে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়াও এখনও পাওয়া যায়নি।