বাংলায় ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIRinBengal) পর প্রথম সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে রাজ্যে। রাত পেরলেই খুশির ইদ (Eid)। পবিত্র উৎসবের দিনে অশান্তি এড়াতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (Election commission of India) ও রাজ্য সরকার। পুলিশ প্রশাসনের তরফেও আপত্তি জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার একাধিক দফায় বৈঠক হলেও শেষ পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি কমিশন। ফলে গোটা বিষয়টি এখন হাই কোর্টের রায়ের উপরেই নির্ভর করছে। কমিশন সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রায় ২৪ লক্ষ বিবেচনাধীন ভোটারের তথ্যের নিষ্পত্তি হয়েছে। যদিও রাজ্যে মোট বিবেচনাধীন ভোটারের (adjudication) সংখ্যা প্রায় ৬০ লক্ষ।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সুজয় পাল। উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের ডিজি এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারদের তালিকা প্রকাশের আগে সম্ভাব্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে, তালিকা প্রকাশকে ঘিরে রাজ্যের কোথাও আইনশৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়। বিকেলে ফের তড়িঘড়ি বৈঠক ডাকেন সুজয় পাল। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল (Manoj Agarwall) এবং বিশেষ পর্যবেক্ষক। কমিশন সূত্রে খবর, ওই বৈঠকে ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারদের তালিকা প্রকাশ নিয়েই আলোচনা হয়। তা সত্ত্বেও অনিশ্চয়তা কাটেনি বলেই একটি সূত্রের দাবি। হাই কোর্ট থেকে ফিরে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের দপ্তরে ফের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন দুষ্মন্ত নারিওয়াল এবং সিদ্ধিনাথ গুপ্তা। মনে করা হচ্ছে, অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ নিয়েই পরপর এই তিনটি বৈঠক হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের সংশোধিত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল নির্বাচন। ওই তালিকায় মোট ৬ কোটি ৪৪ লক্ষ ৫২ হাজার ৬০৯ জনের নাম ‘যোগ্য’ ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫। তবে এখনও কোনও অতিরিক্ত বা সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।
এদিন কালীঘাটে তৃণমূলের ইস্তাহার প্রকাশের সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) অভিযোগ করে বলেন, ‘এই করে দিনগুলো নষ্ট হচ্ছে। বেশিরভাগ নাম বাদ গিয়েছে মুর্শিদাবাদ, মালদা, উওর দিনাজপুর থেকে। নির্দিষ্ট একটি ধর্মকে বেশি টার্গেট করে করা হয়েছে। হিন্দুদের নাম বাদ, রাজবংশীদের নাম বাদ, মতুয়াদের নাম বাদ। আসলে এরা হল বকধার্মিক। নির্বাচন কমিশন থেকে বিচার ব্যবস্থা, রাস্তা থেকে মিছিল আমরা গণতন্ত্রের প্রত্যেকটা জায়গায় কড়া নেড়েছি। আবেদন পৌঁছে দিয়েছি কলকাতা থেকে দিল্লি, জাস্টিস দেওয়ার নামে নির্বাচন কমিশনের এটা ইনজাস্টিস চলছে না কি?’
আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দু’দফায় পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণ হবে, ফল ঘোষণা ৪ মে। তবে বহু নাম এখনও বিবেচনাধীন থাকায়, ভোটের আগে সেগুলির নিষ্পত্তি না হলে সংশ্লিষ্টরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। এই পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হলে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। যদিও বিচারপতিরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব বিবেচনাধীন নামের নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করছেন। এরপরেও যাঁদের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়বে, তাঁরা বিচার বিভাগের বিশেষ ট্রাইবুনালে আবেদন করার সুযোগ পাবেন।





