Header AD

নাকতলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে ED-র হানা, ভোটের আগে জোর তৎপরতা

ED Partha Raid

শনিবার সকালে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের (Partha Chatterjee) নাকতলার বাড়িতে হানা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। সকাল প্রায় পৌনে ১১টা নাগাদ কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে তদন্তকারী আধিকারিকরা তাঁর বাড়িতে পৌঁছন। বাড়ির চারপাশে কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয় এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করা হয়। নাকতলায় পার্থের বাড়ির সামনে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে তিনটি গাড়িতে পৌঁছেছে ইডির দল। বাড়ি ঘিরে ফেলেছেন জওয়ানেরা। ধারেকাছে কাউকে ঘেঁষতে দেওয়া হচ্ছে না। সূত্রের খবর, পার্থ বাড়িতেই আছেন। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ। এর আগে একাধিকবার ইডির তলবে সাড়া দেননি পার্থ চট্টোপাধ্যায়। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছিলেন। পরে তিনি বাড়িতে গিয়েই জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়ার কথা জানান। সেই প্রেক্ষিতেই এদিন তাঁর বাড়িতে পৌঁছয় ইডি। একই সময়, মামলার আরেক অভিযুক্ত ‘মিডলম্যান’ প্রসন্নকুমার রায়ের নিউটাউনের অফিসেও তল্লাশি চালানো হয়। তাঁর বাড়িতেও ইডির দল পৌঁছেছে বলে জানা গিয়েছে।

অন্যদিকে, পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বসু-কেও নজরে রেখেছে ইডি। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি থাকায় তাঁর ছেলে সমুদ্র বসু নথিপত্র নিয়ে সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি দপ্তরে যান। সূত্রের খবর, ইডি আধিকারিকরা সমুদ্রের থেকে নথি নিলেও তাঁর সঙ্গে কথা বলেননি। পাশাপাশি মধ্যমগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী রথীন ঘোষকেও তলব করা হয়েছে, যদিও তিনি এখনও হাজিরা দেননি।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে এই নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় (Recritment Corruption Case) পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধার হয়। এরপরই তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। সেই থেকে জেলবন্দি রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী। প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে ছিলেন তিনি। বারবার অসুস্থতার কথা বলে জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন। প্রথমে ইডির মামলায় সুপ্রিম কোর্টে জামিন পান পার্থ। পরবর্তীতে অন্য মামলায় নিম্ন আদালতেও জামিন পেয়েছেন তিনি। তবে তাতেও জেলমুক্তি হয়নি তাঁর। এরপর সিবিআইয়ের মামলায় জামিন পান প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী। গত বছরের নভেম্বর থেকে আপাতত জামিনে মুক্ত তিনি। তাঁর বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে ৫০ কোটিরও বেশি নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছিল। ইডির একাধিক চার্জশিটে পার্থ, প্রসন্নের নাম রয়েছে। এই সংক্রান্ত মামলায় পার্থের নাম জড়ানোর পর তৃণমূল তাঁর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে। তাঁকে দল থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। খাতায়কলমে পার্থ এখনও বেহালা পশ্চিমের বিধায়ক। তবে এ বার আর ওই কেন্দ্র থেকে তাঁকে টিকিট দেয়নি তৃণমূল। বেহালা পশ্চিমে লড়ছেন রত্না চট্টোপাধ্যায়।

তবে ভোটের মুখে ইডির এই তৎপরতা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে। শাসকদলের একাংশ এই অভিযানের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য দেখছে, যদিও কেন্দ্রীয় সংস্থার তরফে এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এখনও পাওয়া যায়নি।