পূর্ব বর্ধমানে এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, শ্লীলতাহানি এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ দায়ের করলেন এক যুবতী। অভিযুক্ত অধ্যাপক স্থানীয় এক প্রভাবশালী কাউন্সিলরের ভাইপো বলে জানা গিয়েছে। যুবতীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাঁকে ভয় দেখানো হচ্ছিল। নতুন সরকার গঠনের পর সাহস করে তিনি পুলিশের শরণাপন্ন হয়েছেন।
অভিযোগকারিণীর বক্তব্য, কলেজে পড়ার সময় ওই অধ্যাপকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয় এবং পরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই প্রেমিকের আচরণ বদলে যায়। তিনি দাবি করেছেন, সম্পর্কে থাকাকালীন তাঁকে নিয়মিত মানসিক অত্যাচার ও শারীরিক হেনস্তার শিকার হতে হয়েছিল। পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে ওঠায় প্রায় দু’বছর আগে সম্পর্ক ভেঙে দেন তিনি।
তবে সম্পর্ক শেষ হওয়ার পরও অভিযুক্ত তাঁকে নানাভাবে বিরক্ত করতে থাকেন বলে অভিযোগ। যুবতীর দাবি, ২০২৫ সালের শুরু থেকে হেনস্তার মাত্রা আরও বেড়ে যায়। পথে-ঘাটে কুপ্রস্তাব দেওয়া, শ্লীলতাহানির চেষ্টা এবং ভয় দেখানোর ঘটনা ঘটতে থাকে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের ২৩ মে কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর বাড়িতেও যান অভিযুক্ত। সেখানে নিজেকে কাউন্সিলরের ভাইপো এবং তৃণমূল নেতাদের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচয় দিয়ে তাঁকে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেওয়া হয়।
এছাড়াও, গত বছরের ১২ জুন বর্ধমানের একটি রেস্তরাঁয় বন্ধুদের সঙ্গে খেতে গেলে সেখানেও অভিযুক্ত দলবল নিয়ে হাজির হন বলে অভিযোগ। যুবতীর দাবি, সকলের সামনে তাঁর চরিত্র নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য করা হয় এবং ব্যক্তিগত কিছু ছবি দেখিয়ে তাঁকে হেনস্তা করা হয়। এরপর থেকে রাস্তাঘাট, রেলস্টেশন এবং কর্মক্ষেত্রেও তাঁকে নিয়মিত বিরক্ত করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। এমনকি অন্যত্র তাঁর বিয়ে ঠিক হওয়ার পর হবু স্বামী ও তাঁর পরিবারকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি।
অভিযোগ দায়ের করতে এতদিন দেরি হওয়ার কারণ হিসেবে যুবতী জানিয়েছেন, অভিযুক্ত এবং তাঁর প্রভাবশালী আত্মীয়ের চাপে তিনি আতঙ্কে ছিলেন। বর্তমানে পরিস্থিতি বদলেছে বলেই তিনি আইনি সাহায্য চেয়েছেন। পাশাপাশি অভিযোগপত্রের একটি কপি পশ্চিমবঙ্গ কলেজ সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত অধ্যাপক। তাঁর দাবি, ওই যুবতীই তাঁদের পরিবারের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। অধ্যাপকের বক্তব্য, যুবতীর বিএড পড়ার খরচ তাঁর পরিবার বহন করেছিল। এখন সম্পর্ক থেকে সরে আসতেই মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে বলে দাবি তাঁর। তিনি পাল্টা আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।





