বাংলায় ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIRinBengal) পর প্রথম সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা (Supplementary Voter List) প্রকাশ ঘিরে অনিশ্চয়তা কাটতে চলেছে। ইদের দিন কোনওরকাম অশান্তি এড়াতে সতর্ক অবস্থান নেয় নির্বাচন কমিশন (Election commission of India) ও রাজ্য প্রশাসন।জানা যায়, শুক্রবার সাপ্লিমেন্টরি তালিকা প্রকাশে পুলিশ প্রশাসনের তরফেও আপত্তি জানানো হয়েছে। তাই শুক্রবারের পরিবর্তে অবশেষে সোমবার সেই তালিকা প্রকাশ করবে কমিশন।কমিশন সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রায় ২৪ লক্ষ বিবেচনাধীন ভোটারের তথ্যের নিষ্পত্তি হয়েছে। যদিও রাজ্যে মোট বিবেচনাধীন ভোটারের (adjudication) সংখ্যা প্রায় ৬০ লক্ষ।
বৃহস্পতিবার একাধিক দফায় বৈঠক হলেও শেষ পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি কমিশন। ফলে গোটা বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়। অবশেষে সব আগামী সোমবার, ২৩ মার্চ এসআইআরে বিচারাধীন ভোটারদের নিষ্পত্তি সেরে প্রথম অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। তার ঠিক এক মাস পর, ২৩ এপ্রিল রাজ্যে শুরু হবে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। পাশাপাশি আগামী সপ্তাহের শুক্রবার দ্বিতীয় অতিরিক্ত তালিকাও প্রকাশ হতে পারে বলে সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্রের খবর, এরপর প্রতি শুক্রবার নিয়মিতভাবে ভাবেই অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিচারাধীন প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের মধ্যে ইতিমধ্যেই ২৭ লক্ষ ২৩ হাজার জনের নামের নিষ্পত্তি সম্পন্ন হয়েছে। তাঁদের নামই অতিরিক্ত ভোটার তালিকা হিসেবে প্রকাশ করা হবে।
পাশাপাশি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। অতিরিক্ত ভোটার তালিকায় কারও নাম না থাকলে, আবেদন জানানোর জন্য নতুন করে একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। সেখানে আবেদন জমা দেওয়া যাবে এবং সেই আবেদনগুলি বিচারপতিরাই খতিয়ে দেখবেন।
সূত্রের খবর, রাজ্যের ২৩টি জেলার জন্য মোট ১৯ জন প্রাক্তন বিচারপতিকে নিয়ে একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। এই ট্রাইব্যুনালে রয়েছেন টিএস শিবজ্ঞানম, প্রাক্তন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু, রঞ্জিতকুমার বাগ, সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়-সহ ১৯ জন বিচারপতি। অতিরিক্ত ভোটার তালিকায় কারও নাম না ওঠা বা নাম বাদ পড়ার ক্ষেত্রে, সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এই ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হওয়া যাবে।
সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশের পর থেকেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সেখানে আবেদন জানাতে পারবেন। জানা গিয়েছে –
১. অনলাইন, অফলাইন – দুটি উপায়েই ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারবেন যে কেউ।
২. ECI NET মোবাইল অ্যাপ বা কমিশনের ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইন আবেদন করা যাবে।
৩. এছাড়া জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক এবং মহকুমাশাসকের কাছে অফলাইনে আবেদন করা যাবে।
৪. এই ট্রাইব্যুনাল এখন থেকেই কাজ শুরু করতে পারবে।
তবে এরপরেও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে ৬০ লক্ষ বিচারাধীনকে কি সুবিচার দিতে পারবে কমিশন?





