আলিপুরের নতুন প্রশাসনিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের (Alipur Fire case) ঘটনায় এবার আনুষ্ঠানিকভাবে FIR দায়ের করা হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার অতিরিক্ত জেলাশাসক (এডিএম) অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আলিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়ে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, আগুনের পিছনে কোনও ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ আলিপুরের প্রশাসনিক ভবনে অবস্থিত এডিএমের দপ্তরে আগুন লাগে। ওই অংশেই ছিল জেলা পরিষদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অফিস, যার মধ্যে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে পরিচিত মুখ জাহাঙ্গির খানের (Jahangir Khan) দপ্তরও রয়েছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল, পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। দীর্ঘ সময় ধরে আগুন নেভানোর কাজ চললেও রাত পর্যন্ত পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
ঘটনার পর থেকেই প্রশাসনের তরফে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। পুলিশ পুরো এলাকা ঘিরে ফেলেছে এবং সেখানে পুলিশ পিকেট মোতায়েন করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবে। তাঁদের রিপোর্টের ভিত্তিতেই অগ্নিকাণ্ডের উৎস ও কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হয়েছিল, এসি-র ত্রুটি বা শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে আগুন সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা।
এদিকে, আগুন লেগেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে, যেখানে জাহাঙ্গির খান নিয়মিত বসতেন। সম্প্রতি ‘পুষ্পা’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তির গ্রেপ্তারির ঘটনার পর এই অগ্নিকাণ্ডকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। শুধুই দুর্ঘটনা, নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে— সেই উত্তর খুঁজতেই এবার পুলিশের দ্বারস্থ হল প্রশাসন। তদন্তকারীরা সমস্ত সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখছেন।





