কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে করা বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে দায়ের হওয়া মামলায় আপাতত স্বস্তি পেলেও, একাধিক শর্তের মুখে পড়তে হল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)-কে। আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি দেশ ছাড়তে পারবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিল হাইকোর্ট (High Court)। পাশাপাশি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাঁকে।
তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলা খারিজের আবেদন জানিয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানিতে বিচারপতি বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য (Justice Sougata Bhattacharya) অভিষেকের করা মন্তব্য নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বিচারপতির প্রশ্ন, তিনবারের সাংসদ হয়েও কীভাবে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করা সম্ভব?
তবে আদালত ৩০ জুলাই পর্যন্ত অভিষেককে রক্ষাকবচ দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তাঁকে গ্রেপ্তার বা কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ। একইসঙ্গে আদালতের নির্দেশ, জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হলে ৪৮ ঘণ্টা আগে নোটিশ দিতে হবে।
শুনানির সময় অভিষেকের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ( Kalyan Banerjee) ভার্চুয়াল হাজিরার অনুমতি চেয়ে দাবি করেন, তদন্তের নামে তাঁর মক্কেলকে হেনস্তা করা হতে পারে। যদিও সেই আবেদন খারিজ করে বিচারপতি স্পষ্ট জানান, “তাঁকে হাজিরা দিতেই হবে। আইন মেনেই সব পদক্ষেপ করা হবে।”
এদিন শুনানিতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। তাঁর পর্যবেক্ষণ, সর্বভারতীয় দলের এক শীর্ষনেতার এ ধরনের মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে। এমনকি ভোটের ফল অন্যরকম হলে কী পরিস্থিতি তৈরি হত, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। পাল্টা মন্তব্যে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মানুষ যেমন ২০১১ সালে পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছিল, তেমনই ২০২৬ সালেও ভালোর পক্ষেই মত দিয়েছে। এর জবাবে বিচারপতির সংক্ষিপ্ত মন্তব্য, “সেটা সময়ই বলবে।”





