Header AD

‘মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ঘেঁষতেই পারতাম না’! ইস্তফার পর তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশানা সুশান্ত-অরূপের

arup susanta

সময় যত এগোচ্ছে, রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের অসন্তোষ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বুধবার কসবার তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ বরো চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইস্তফা দেন। একইসঙ্গে দলের অন্যতম মুখপাত্র ও কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তীও অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান পদ ছাড়েন।ইস্তফার পরেই নাম না করে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং দলের একাধিক শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন তাঁরা।

সুশান্ত ও অরূপের বক্তব্য, নির্বাচনে পরাজয়ের বাস্তবতা মেনে নেওয়াই উচিত। বললেন, “হার স্বীকার তো করতেই হবে।” তাঁদের দাবি, ভোটে হারের পর টানা কয়েক সপ্তাহ সাধারণ মানুষের পাশে কোনও মন্ত্রীকে দেখা যায়নি।

দু’জনের কথায়, “ভোটের ফল বেরোনোর পর ২৪-২৫ দিন কোনও মন্ত্রীকে দেখা যায়নি।তাঁদের জন্য আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ঘেঁষতে পারতাম না।” তাঁদের অভিযোগ, যাঁরা সবসময় কড়া নিরাপত্তা নিয়ে (জেড প্লাস, ওয়াই প্লাস সিকিউরিটি) চলাফেরা করতেন, তাঁদের কাউকেই মানুষের পাশে পাওয়া যায়নি।

এখানেই থেমে থাকেননি তাঁরা। তাৎপর্যপূর্ণভাবে বিজেপিকেও ধন্যবাদ জানান দুই কাউন্সিলর। তাঁদের দাবি, ঘরছাড়া কর্মীদের বাড়ি ফিরতে সাহায্য করেছে বিজেপি। জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকার মানুষের পাশে থাকার দায়বদ্ধতার কথাও উল্লেখ করেন তাঁরা। সুশান্ত ঘোষ বলেন, “শেষ মানুষটিকেও ঘরে ফেরাতে না পারা পর্যন্ত কাউন্সিলর পদে থাকব।”

এই মন্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে—তাহলে কি আগামী দিনে সুশান্ত ঘোষ ও অরূপ চক্রবর্তীর গন্তব্য হতে পারে বিজেপি (Bharatiya Janata Party)?যদিও তাঁরা সরাসরি দলবদলের কথা ঘোষণা করেননি, তবু বিজেপিকে প্রকাশ্যে ধন্যবাদ জানানোয় সেই সম্ভাবনা নিয়েই আলোচনা বাড়ছে।

উল্লেখ্য, রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর থেকেই তৃণমূলের একাধিক নেতা প্রকাশ্যে দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। কেউ কেউ দলীয় পদও ছেড়েছেন।দলের দীর্ঘদিনের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar)-ও ইতিমধ্যেই দলের সমস্ত পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। ফলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, ক্ষমতা হারানোর পর তৃণমূলের অন্দরে ভাঙনের প্রবণতা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।