রাজ্যের নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই স্বাস্থ্যব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যার মোকাবিলায় কড়া অবস্থানের ইঙ্গিত দিলেন বিশিষ্ট ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায় (Sharadwat Mukherjee)। অভয়া-কাণ্ডের (Abhaya case) তদন্ত প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ঘটনায় জড়িত কেউই রেহাই পাবেন না, তিনি চিকিৎসক হলেও নয়। একইসঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিনের ‘থ্রেট কালচার’ বা দাদাগিরির রাজনীতিও বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
দায়িত্ব গ্রহণের পর শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, অভয়া-কাণ্ডের ময়নাতদন্ত কীভাবে হয়েছে, কারা সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন—সবকিছু নতুন করে খতিয়ে দেখা হবে। সংশ্লিষ্ট সমস্ত নথি ও তথ্য পুনর্বিবেচনার নির্দেশও দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
স্বাস্থ্য দপ্তরের দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বহু সমস্যা ও ঘাটতি রয়েছে। ডেন্টাল শিক্ষা, ফার্মেসি পরিষেবা, সরকারি মেডিক্যাল কলেজে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা এবং বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলির পরিকাঠামো—সব ক্ষেত্রেই নজর দেওয়া হবে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি সম্পূর্ণভাবে বুঝতে কিছুটা সময় লাগবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন বলাগড়ের বিধায়ক সুমনা সরকার (Sumona Sarkar)। তিনি জানান, গ্রামীণ ও জেলা স্তরের স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। জেলা, মহকুমা ও ব্লক স্তরের হাসপাতালগুলিতে পরিকাঠামো ও চিকিৎসা পরিষেবা উন্নত করা গেলে কলকাতার বড় হাসপাতালগুলির উপর চাপ অনেকটাই কমবে বলে তাঁর মত।
সুমনা আরও বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য এখনও বহু রোগী দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে যেতে বাধ্য হন। রাজ্যের মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালগুলিতে আধুনিক পরিষেবা বাড়িয়ে সেই প্রবণতা কমানোর চেষ্টা করা হবে।
দীর্ঘদিন পর স্বাস্থ্যভবনে পূর্ণমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী—দু’জনের নেতৃত্বে নতুন প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে উঠেছে। দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই দুই মন্ত্রী শীর্ষ স্বাস্থ্যকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।
নিজের নিয়োগকে জনগণের জয় বলে উল্লেখ করে শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জনস্বাস্থ্য সচেতনতার উপরও জোর দেন। তাঁর মতে, স্কুল স্তর থেকেই ‘বেসিক লাইফ সাপোর্ট’ বা প্রাথমিক জীবনরক্ষাকারী প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা উচিত। এ বিষয়ে শিক্ষাদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করার কথাও জানান তিনি।
চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালগুলিতে ভয়ভীতি ও দাদাগিরির সংস্কৃতি নিয়ে কড়া বার্তা দিয়ে নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কোনওভাবেই ক্ষমতার অপব্যবহার বরদাস্ত করা হবে না। যে-ই দোষী হোক, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





