Header AD

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, যুবসাথীর জোড়া ফলা! ভোটমুখী বাংলার মন বুঝতে দিশেহারা বিজেপি, মায়াপুরে কৃষ্ণ-শরণে শাহ

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার তো ছিলই। তার সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে যুবসাথীও। রাজ্য সরকারের এই দুই সামাজিক প্রকল্প নিয়ে চিন্তার ভাঁজ বিরোধী শিবিরের কপালে। এই দুই প্রকল্প যে তাদের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে, তা স্পষ্টতই দৃশ্যমান। নাজেহাল বিজেপি হালে পানি পেতে বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Assembly Election) সামনে রেখে এই প্রকল্পগুলির রাজনৈতিক প্রভাব কতটা, তা খতিয়ে দেখতে রাজ্যে সার্ভে টিম নামিয়ে সমীক্ষা শুরু করেছে। পাশাপাশি এরাজ্যের নির্বাচনী বৈতরণী পার করতে এবার মায়াপুরে কৃষ্ণের শরণাপন্ন হচ্ছেন কেন্দ্রীয় সরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)।

সূত্রের খবর, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই রাজ্যের জেলায় জেলায় সমীক্ষা দল পাঠিয়েছে। জেলা ধরে ধরে উপভোক্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলছে। প্রকল্পগুলি নিয়ে মানুষের সন্তুষ্টি, রাজনৈতিক মনোভাবের পরিবর্তন এবং ভোটের সিদ্ধান্তে তার প্রভাব-সব কিছুই বিস্তারিতভাবে নথিভুক্ত করা হচ্ছে। আর সেই কাজ করতে গিয়ে কার্যত দিশেহারা দশা সমীক্ষা টিমের।

গ্রাম এবং শহরতলি-দুই এলাকাতেই মহিলাদের মধ্যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের গ্রহণযোগ্যতা অপরিসীম। মাসিক এই আর্থিক সহায়তা সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ সামলাতে বড় ভরসা হয়ে উঠেছে বলে উপভোক্তাদের বড় অংশ মত দিচ্ছেন। একইভাবে নতুন যুবসাথী প্রকল্প পড়ুয়া ও বেকার যুবকদের মাসিক ভাতা হিসাবে পড়াশোনা চালানো ও চাকরির প্রস্তুতিতে কার্যকর ভূমিকা নেবে বলেই প্রতিক্রিয়া উঠে আসছে সমীক্ষায়। বলাই যায় এই সমীক্ষা বুমেরাং হয়ে গিয়েছে রাজ্যের বিরোধী শিবিরের কাছে।

এদিকে এই পরিস্থিতিতে আবার চলতি মাসেই রাজ্যের ভোট প্রচারে আসছেন কেন্দ্রীয় সরাষ্ট্রমন্ত্রী। যাবেন মায়াপুরের ইসকন মন্দিরে। সেখানে তাঁর ইসকনের সন্তদের সঙ্গে বৈঠক করার কথাও রয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বঙ্গের ভোট বৈতরণী পেরতে মায়াপুরে কৃষ্ণ-স্মরণে আসছেন শাহ।

রাজ্যের বিরোধী শিবির এতদিন এই সরকারি প্রকল্পগুলিকে ‘ফ্রি স্কিম’ বলে আক্রমণ করলেও বাস্তবে যে এগুলি বিপুল জনসমর্থন তৈরি করেছে, তা এখন আর বিজেপির অস্বীকার করার কোনও জায়গা নেই। বিশেষ করে মহিলা ও যুব ভোটারদের মধ্যে এর প্রভাব ভবিষ্যৎ নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে- তা ভেবেই পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঠে নামছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।