জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ বিধানসভা (Rajgaunj Assembly Constituency) কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) প্রার্থী স্বপ্না বর্মণের (Swapna Burman) নির্বাচনে লড়াই করা নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই পরিষ্কার করল নির্বাচন কমিশন (ECI)। দীর্ঘ টানাপড়েনের পর সোমবার ভ্রামরীদেবীর মন্দিরে পুজো দিয়ে রাজগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন প্রাক্তন অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মণ। সোমবার মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনে সরকারি অফিস থেকে বেরিয়ে স্বপ্না বলেন, ‘‘অনেক স্ট্রাগল, ত্যাগের পর মনোনয়নপত্র জমা দিলাম। আমি রাজগঞ্জের মেয়ে। আমার ব্যাকগ্রাউন্ড খেলাধুলোর। অনেক ত্যাগের পর মনোনয়ন দিলাম। এ বার পুরোদমে প্রচারে নেমে পড়ব।’’
রবিবার মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনের ঠিক আগে কমিশন জানায়, স্বপ্নার প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে আইনি কোনও বাধা নেই। কমিশনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী স্বপ্না বর্মণের বিরুদ্ধে এমন কোনও অভিযোগ নেই, যার জন্য তাঁকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখা যায়। যদিও রেলের তরফে তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছিল—রাজনৈতিক কার্যকলাপে যুক্ত থাকা, কর্মক্ষেত্রে সততা ও দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন এবং চাকরির কাজকর্ম নিয়ে অসন্তোষ। ইতিমধ্যেই শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে রেল কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিয়েছে, তবে স্বপ্না বর্তমানে সেই চাকরিতে কর্মরত নন।
তবে আইনে স্পষ্ট বলা আছে, দুর্নীতি বা রাষ্ট্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার মতো গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হলে পাঁচ বছর নির্বাচনে লড়া যায় না। স্বপ্নার ক্ষেত্রে এমন কোনও অভিযোগ না থাকায় তাঁর প্রার্থী হতে আইনি বাধা নেই বলেই জানিয়েছে কমিশন। এর পরেও কিছু অনিশ্চয়তা ছিল। কারণ, রেলের পক্ষ থেকে স্বপ্না বর্মণ ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (NOC) পাওয়া বাকি ছিল। সোমবার দুপুরের মধ্যে সেই ছাড়পত্র পেলেন তিনি। তারপর মনোনয়ন জমা দিলেন তিনি।
এদিকে এখনও পর্যন্ত স্বপ্নাকে নির্বাচনী প্রচারেও খুব একটা দেখা যাচ্ছিল না। রবিবার রাজগঞ্জের বিদায়ী বিধায়ক খগেশ্বর রায় জানিয়েছিলেন, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) তাঁকে ফোন করে বলেছেন, স্বপ্না এনওসি পান বা না পান, তিনিও যেন মনোনয়ন জমা দেন। সোমবার অবশ্য স্বপ্নার মনোনয়নপত্র জমা করার সময় খগেশ্বরকে আশপাশে দেখা যায়নি। তৃণমূল সূত্রে যদিও খবর, বিদায়ী বিধায়ক অভিষেকের উত্তরবঙ্গ সফর নিয়ে ব্যস্ত বলে থাকতে পারেননি।





