দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় ভালো ফলের আশা করেছিলেন বেদান্ত। কিন্তু ফল প্রকাশের পর পদার্থবিদ্যায় (Physics) আশানুরূপ নম্বর না পেয়ে সন্দেহ হয় তাঁর। তাই নিয়ম মেনে নিজের উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেন তিনি। আর সেই উত্তরপত্র হাতে পেয়েই হতবাক হয়ে যান ছাত্রটি। কারণ, যে খাতা তাঁকে পাঠানো হয়েছে, সেটি আদৌ তাঁর নয়। হাতের লেখা মিলিয়ে তিনি বুঝতে পারেন, অন্য কারও উত্তরপত্র তাঁর নামে দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনা সামনে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন পড়ে যায়। বেদান্ত নিজের অভিজ্ঞতার কথা পোস্ট করতেই বহু পড়ুয়া দাবি করেন, তাঁরাও একই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। ফলে CBSE-র মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ঘটনাটি রাজনৈতিক মহলেও প্রভাব ফেলেছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ( Rahul Gandhi) কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, এক কিশোর নিজের প্রাপ্য নম্বর নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই তাকে নানা ভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে। তরুণ প্রজন্মই ভবিষ্যতে এই পরিস্থিতির জবাব দেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিতর্ক বাড়তে থাকায় শেষ পর্যন্ত মুখ খুলতে বাধ্য হয় সিবিএসই। বোর্ডের তরফে জানানো হয়েছে, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে স্বীকারও করা হয়েছে যে উত্তরপত্র পাঠানোর ক্ষেত্রে গাফিলতি হয়েছে। আপাতত দুই পরীক্ষার্থীর নম্বর সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—যদি আরও বহু পড়ুয়া একই সমস্যার শিকার হয়ে থাকে, তাহলে তাদের ভবিষ্যতের দায় কে নেবে? ভুল মূল্যায়ণের কারণে কম নম্বরের বোঝা কি তাদের আজীবন বইতে হবে?





