রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্বপ্নের শিক্ষাঙ্গন বিশ্বভারতী (Vishwabharati) এবার চিকিৎসা শিক্ষার ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত খুলতে চলেছে। এইমসের (All India Institute of Medical Sciences) আদলে শান্তিনিকেতনে মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি বদলে যেতে পারে বীরভূম জেলার স্বাস্থ্য পরিষেবার সামগ্রিক চিত্রও।
বিশ্বভারতীর তরফে জানানো হয়েছে, প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠানের নাম হতে পারে “বিশ্বভারতী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল”। যদিও এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে জাতীয় মেডিকেল কমিশন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক এবং রাজ্য সরকারের অনুমোদনের উপর।
এই বিষয়ে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ জানিয়েছেন, উপাচার্যের বিশেষ উদ্যোগেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা ও আধুনিক স্বাস্থ্য পরিষেবাকে একসঙ্গে যুক্ত করেই মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল গড়ে তোলার ভাবনা এগচ্ছে। ইতিমধ্যেই প্রাথমিক আবেদনও করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তাঁর দাবি, এই প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে সাধারণ মানুষ উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের পড়ুয়ারাও উপকৃত হবেন।
দীর্ঘদিন ধরেই বোলপুর-শান্তিনিকেতন এলাকায় উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবার অভাব নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। গুরুতর অসুস্থ হলে অনেক ক্ষেত্রেই রোগীদের কলকাতা বা অন্য শহরে যেতে হয়। ইতিহাসও সেই সাক্ষ্য বহন করে। চিকিৎসার প্রয়োজনেই জীবনের শেষ পর্বে শান্তিনিকেতন ছাড়তে হয়েছিল স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ (Rabindranath Tagore) ঠাকুর-কে। একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন তাঁর পুত্র রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রাক্তন সাংসদ সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় (Somnath Chattopadhaya) এবং সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহ-সহ (Buddhadev Guha) বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি।
কোভিড পরিস্থিতির সময়েও শান্তিনিকেতনের প্রবীণ আশ্রমিকদের চরম সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছিল। তাই বিশ্বভারতীতে আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল গড়ে ওঠার সম্ভাবনায় আশাবাদী পড়ুয়া, প্রাক্তনী, আশ্রমিক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।
বর্তমানে বিশ্বভারতীর অধীনে দুটি হাসপাতাল রয়েছে— পিয়ার্সন মেমোরিয়াল হাসপাতাল এবং দীনবন্ধু এন্ড্রুজ মেমোরিয়াল হাসপাতাল। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, ভবিষ্যতে এই হাসপাতালগুলিকেও নতুন মেডিক্যাল কলেজের সঙ্গে যুক্ত করা হতে পারে। অনুমোদন মিললেই শান্তিনিকেতনে শুরু হতে পারে চিকিৎসা বিজ্ঞানের পঠনপাঠন। আর সেই সম্ভাবনাই এখন নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে বীরভূমের মানুষকে।





