বাংলায় বিজেপি সরকার গঠনের পর নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে উন্নয়নের বার্তা আরও জোরালো হয়েছে। গত ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) দাবি করেন, ডবল ইঞ্জিন সরকারের সুফল ইতিমধ্যেই পেতে শুরু করেছেন রাজ্যের মানুষ। তাঁর কথায়, আগামী দিনে কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে পশ্চিমবঙ্গে আরও বহু উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়িত হবে।পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে একই সুর শোনা গেল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi)বক্তব্যেও।
আর কিছুক্ষণের মধ্যেই দুদিনের সফরে রাজ্যে এসে পৌঁছবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার আগে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে বঙ্গবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে এক্স হ্যান্ডেলে বাংলায় পোস্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।‘এক্স’-এ তিনি লেখেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গের আমার বোন ও ভাইদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা।
এই দিনটি এমন এক রাজ্যকে উদযাপন করে যা সাহিত্য, সঙ্গীত, শিল্প, আধ্যাত্মিকতা, বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও ব্যবসা, সমাজ সংস্কার এবং আরও অনেক বৈচিত্র্যময় ক্ষেত্রে তার অবদানের মাধ্যমে ভারতের ইতিহাসকে রূপদান করেছে। বারবার, অগণিত ভাবে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের জাতীয় চেতনাকে সমৃদ্ধ করেছে।
পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে ২০ জুন দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই দিনেই নিশ্চিত করা হয়েছিল যে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের একটি অংশ হিসেবেই থাকবে। এর পেছনে ছিল ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর অমূল্য অবদান। ২০২৬ সালে, আমরা ড. মুখার্জীর ১২৫তম জন্মজয়ন্তীও পালন করছি।
জনগণের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে। আমি পশ্চিমবঙ্গের অগ্রগতি এবং পশ্চিমবঙ্গবাসীর সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করছি।’
এই প্রসঙ্গে তিনি স্মরণ করেন ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Syama Prasad Mukherjee) অবদান। পাশাপাশি জানান, ২০২৬ সালে ড. মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মজয়ন্তীও পালিত হচ্ছে।প্রধানমন্ত্রী আরও আশ্বাস দেন, জনগণের স্বপ্নপূরণে কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে।

প্রসঙ্গত, শনিবার দু’দিনের সফরে পশ্চিমবঙ্গে আসছেন প্রধানমন্ত্রী। সফরের অন্যতম প্রধান কর্মসূচি তারকেশ্বরে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন এবং রেড রোডে (Red Road) আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ। বিকেলে তারকেশ্বরে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক বৈঠক ও বালিগড়িতে জনসভাও করবেন তিনি।
এই সফরে পশ্চিমবঙ্গের জন্য ৮২০ কোটিরও বেশি টাকার প্রকল্পের সূচনা করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি প্রায় ৫৯০ কোটি টাকার রেল সংস্কার প্রকল্পের ঘোষণাও রয়েছে। কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা (Pradhan Mantri Fasal Bima Yojana) এবং ধনধান্য যোজনার মতো একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্প চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।
এছাড়া PM-KISAN প্রকল্পের পরবর্তী কিস্তির অর্থ বিতরণও করা হবে বলে জানা গেছে।কৃষি, গ্রামোন্নয়ন, মৎস্য এবং পশুপালন— এই চারটি ক্ষেত্রকে সামনে রেখেই বাংলার উন্নয়নের নতুন রূপরেখা তুলে ধরতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক— দুই দিক থেকেই এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।





