Header AD

‘এক ইঞ্চি জমিও ছাড়া যাবে না’, কর্মীদের কড়া বার্তা দিয়ে নন্দীগ্রামে জয়ের ডাক অভিষেকের

abhishek nandigram

নন্দীগ্রামকে ঘিরে রাজনৈতিক লড়াই এবার আরও তীব্র। ভোট প্রচারের দ্বিতীয় দিনেই কর্মীসভা—যা কার্যত জনসভায় রূপ নেয়—সেখান থেকে এক ঘণ্টারও বেশি বক্তব্যে দলীয় কর্মীদের স্পষ্ট বার্তা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তাঁর গোটা বক্তব্যের সারমর্ম করলে দাঁড়ায় —সারা রাজ্যের ২৯০টি কেন্দ্রের কৌশল একদিকে, আর নন্দীগ্রাম আর একদিকে। কর্মীসভা থেকে এদিন নন্দীগ্রামে জয় সুনিশ্চিত করতে কর্মীদের কড়া বার্তা দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।

এদিনের কর্মীসভায় তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “এক ইঞ্চি জমিও ছাড়া যাবে না।” তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করের হাত ধরে অপবিত্র নন্দীগ্রামকে “পবিত্র” করার ডাক দেন তিনি। পাশাপাশি দলীয় কর্মীদের সতর্ক করে বলেন, সারা বছর সংগঠন চালিয়ে নির্বাচনের আগে অন্য কোনও খেলা হলে দল তা বরদাস্ত করবে না। তাছাড়া কোনও ব্যক্তির কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

প্রসঙ্গত নন্দীগ্রাম বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীর গড় বলেই খ্যাত। সেই প্রসঙ্গ টেনে এদিন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ বলেন, “গদ্দারের আবার গড় কিসের!” তাঁর দাবি, নন্দীগ্রাম বরাবরই তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি এবং গত পাঁচ বছরে এলাকার বিধায়ক মানুষের জন্য কী করেছেন, তার জবাব চাইছেন সাধারণ মানুষ। বিজেপির বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতা ও বিভাজনের রাজনীতি করার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, মানুষের মৌলিক সমস্যার বদলে অন্য ইস্যু সামনে আনা হচ্ছে। অভিষেকের কথায়, “বিজেপি এখানে সাম্প্রদায়িকতা, ঘৃণার রাজনীতি শুরু করেছে। যখন লোকেরা শুভেন্দুকে রাস্তাঘাট নিয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, এসব বাদ দিন… আগে আপনারা আপনাদের বাড়িতে গেরুয়া পতাকা লাগান।”

তিনি আরও বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-র নেতৃত্বে “মা-মাটি-মানুষ”-এর সরকার নন্দীগ্রামে উন্নয়নের ধারা বজায় রেখেছে—জয়ী হোক বা না হোক, প্রতিটি এলাকাতেই উন্নয়ন হয়েছে। এই ধারা বজায় রাখতে তৃণমূল কংগ্রেসকে জেতানোর আহ্বান জানান তিনি।

একই সঙ্গে সেবাশ্রয় শিবিরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান,নন্দীগ্রামে ১৫ দিন ধরে সেবাশ্রয় শিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৫ দিনে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছেন এবং ব্যাপক সাড়া মিলেছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, প্রার্থী জিতলে প্রতি বছর এই শিবির হবে এবং প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে মডেল ক্যাম্প করা হবে। পাশাপাশি রাজ্যের “দুয়ারে স্বাস্থ্য” পরিষেবাও নন্দীগ্রামে চালু থাকবে বলে জানান তিনি।

শেষে তিনি দলীয় কর্মীদের আত্মতুষ্টি কাটিয়ে সক্রিয় হওয়ার বার্তা দেন। তাঁর কথায়, “শুধু সরকারি প্রকল্পের উপর ভরসা করলে চলবে না, মানুষের কাছে পৌঁছতে হবে।” বিজেপির বিরুদ্ধে মানুষের প্রাপ্য অর্থ আটকে রাখার অভিযোগ তুলে তিনি ভোটারদের সচেতন করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি দলীয় কর্মীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ভয় পাওয়ার কিছু নেই—সংগঠনের প্রতিটি স্তরের সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগাযোগ থাকবে। কর্মীদের প্রতি তাঁর বার্তা, বিরোধীদের হারানোর চেয়েও নিজের প্রার্থীকে জেতানোই হবে প্রধান লক্ষ্য।