পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর (Mamata Banerjee) বিরুদ্ধে কুরুচিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করে সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও প্রচারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)। অভিযোগ মদনমোহন জেনা নামে এক ব্যক্তি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার কলকাতা-র শেক্সপিয়র সরণি থানা-য় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়। তৃণমূলের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে মুখ্যমন্ত্রীর সম্মানহানি এবং সমাজে বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন ওই ব্যক্তি। এই ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ।
তৃণমূলের তরফে দায়ের করা অভিযোগে জানানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর বিরুদ্ধে একাধিক আপত্তিকর ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে এই ভিডিওগুলি তৈরি ও প্রচার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, FIR-এ উল্লেখ করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট ভিডিওগুলিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বিতর্কিত মন্তব্য করতে দেখা গিয়েছে। সেই মন্তব্যগুলি অশ্লীল, অপমানজনক, আপত্তিকর এবং যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ বলে দাবি করা হয়েছে। এর ফলে মুখ্যমন্ত্রীর শালীনতা ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। শুধু তাই নয়, ওই ভিডিওগুলিতে নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে হিংসায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্ররোচনায় এই ভিডিওগুলি তৈরি করা হয়েছে। ভুয়ো, উস্কানিমূলক এবং ধর্মীয়ভাবে সংবেদনশীল মন্তব্যগুলি যে কোনও সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে বলেও এফআইআর-এ উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ভিডিওগুলি ক্যামাক স্ট্রিট এলাকা থেকে ছড়ানো হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে অভিযোগে। ঘটনাকে ঘিরে প্রশাসনিক মহলে তৎপরতা শুরু হয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এই মামলায় শেক্সপিয়র সরণি থানা-র পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইন মিলিয়ে মোট ১৬টি ধারায় অভিযোগ দায়ের করেছে। তৃণমূলের অভিযোগ পত্রে আরও দাবি করা হয়েছে যে, আসন্ন ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ধরনের বিভ্রান্তিকর এবং ঘৃণা উদ্রেককারী ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবিতে সরব হয়েছে তৃণমূল । দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইন-এর একাধিক ধারায় দ্রুত ও কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তা অন্যদেরও একই ধরনের কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করতে পারে, যার ফলে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।





