২০ জুন ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পালন বাধ্যতামূলক, রাজ্যের সব স্কুলকে নির্দেশ শিক্ষা দপ্তরের।রাজ্যের সমস্ত সরকারি, সরকার-পোষিত এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বিদ্যালয়ে আগামী ২০ জুন যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পালন করতে হবে। এই মর্মে সম্প্রতি নির্দেশিকা জারি করেছে স্কুল শিক্ষা দপ্তর।
বিকাশ ভবনের তরফে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দিনটিকে স্মরণীয় করে তুলতে প্রতিটি বিদ্যালয়ে প্রবন্ধ রচনা, বিতর্কসভা এবং কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা বাধ্যতামূলক। এর মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং রাজ্যের প্রতি দায়িত্ববোধ গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক।
পাশাপাশি, আয়োজিত কর্মসূচির সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও আলোকচিত্র নির্ধারিত নিয়মে আগামী ২৫ জুনের মধ্যে শিক্ষা দপ্তরে জমা দেওয়ার জন্য জেলার স্কুল পরিদর্শকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগেই রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দপ্তর সমস্ত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উদ্যাপনের নির্দেশ দিয়েছে। শুধু ২০ জুনেই নয়, পরবর্তী দুই থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও আলোচনা সভার আয়োজন করার কথাও বলা হয়েছে।
সরকারি সূত্রের দাবি, নতুন প্রজন্মের কাছে পশ্চিমবঙ্গের গঠন, তার ঐতিহাসিক পটভূমি এবং বাঙালিদের নিজস্ব ভূখণ্ড হিসেবে রাজ্যের আত্মপ্রকাশের ইতিহাস তুলে ধরাই এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য।
প্রসঙ্গত, ১৯৪৭ সালের ২০ জুন আইনসভায় ভোটাভুটির মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক দিনটিকে স্মরণ করে হুগলির তারকেশ্বরে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi)।
ঐতিহাসিকভাবে তারকেশ্বরের গুরুত্বও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কারণ, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এখানকার এক সম্মেলন থেকেই পশ্চিমবঙ্গ গঠনের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব গ্রহণ করেছিলেন। সেই ঐতিহাসিক স্মৃতিকে সম্মান জানাতেই এই অনুষ্ঠানের জন্য তারকেশ্বরকে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে খবর।





