Header AD

গৃহস্থের হেঁশেল- মিড ডে মিলে অগ্রাধিকার, হোটেল-রেস্তোরাঁয় রাশ, গ্যাস সরবরাহ নিয়ে ১০ দফা নির্দেশিকা জারি রাজ্যের

মধ্যপ্রাচ্যে ধুন্ধুমার যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে গোটা বিশ্বজুড়ে। এই আবহে এদেশেও জ্বালানি গ্যাসের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। গ্যাসের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্যাস সিলিন্ডার বুকিংয়ের সমস্যায় নাজেহাল সাধারণ মানুষ। গ্যাসের অভাবে থমকে যেতে বসেছে একাধিক হোটেল-রেস্তোরাঁ। ছাপ পড়েছে সিএনজি চালিত গণপরিবহনেও। বলা যায় যুদ্ধের আঁচ এসে পড়েছে সাধারণের হেঁশেলে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য জুড়ে রান্নার গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নবান্ন থেকে জেলা আধিকারিকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।আপদকালীন পরিস্থিতির মোকাবিলায় এবার ১০ দফা নির্দেশিকা জারি করল রাজ্য সরকার।

বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বিস্তারিতভাবে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন এবং জনগণকে যাতে অত্যাবশ্যকীয় জ্বালানি সরবরাহে কোনও বিঘ্নের সম্মুখীন হতে না হয়, তার জন্য প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।বৃহস্পতিবার নবান্নের তরফে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১০ দফা পরামর্শ দিয়ে তৈরি হল এসওপি বা বিশেষ নির্দেশিকা। তাতে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে গৃহস্থের রান্নাঘর, মিড ডে মিল, হাসপাতালে পরিষেবাকে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হোটেল, রেস্তরাঁয় বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহের ক্ষেত্রে রাশ টানা হয়েছে। তৈরি করা হয়েছে একটি নজরদারি কমিটিও। খোলা হয়েছে ২৪ ঘণ্টা হেল্পলাইন নম্বর।

এর পরিপ্রেক্ষিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই। পোস্টে তিনি লিখেন, ‘ নবান্নে সমস্ত দপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে বিশেষ বৈঠক করলাম। সমস্ত জেলার আধিকারিকরা ভার্চুয়ালি এই বৈঠকে যোগদান করেছেন। রান্নার গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আজকের এই জরুরি বৈঠক করলাম। বিস্তারিতভাবে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং অত্যাবশ্যকীয় জ্বালানি সরবরাহে জনগণকে যাতে কোনও বিঘ্নের সম্মুখীন হতে না হয়, তার জন্য প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় SOP জারি করা হয়েছে। এরই পাশাপাশি, নবান্নে এলপিজি কন্ট্রোল রুম চালু করা হচ্ছে। কন্ট্রোল রুমের নম্বরটি হল- ১০৭০ / ০৩৩-২২১৪-৩৫২৬’।

পাশাপাশি জরুরি পরিষেবার ক্ষেত্রে গ্যাস সরবরাহ যাতে মসৃণ থাকে সেই বিষয়ে নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি লেখেন, ‘হাসপাতাল, সাধারণ গৃহস্থালি, মিড-ডে-মিল প্রকল্প অধীনস্থ স্কুল, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র এবং সংশোধনাগার, সরকারি হস্টেল ও অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সরবরাহের বিষয়টির দিকে বিশেষভাবে নজর রাখছে রাজ্য।

এছাড়াও রেস্তোরাঁ, হকার এবং হোম ডেলিভারি পরিষেবার সঙ্গেও জড়িত সকলের বিষয় নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করা হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস এজেন্সিদের গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। সাপ্লাই চেন যেন স্বচ্ছ ও নিয়মিত থাকে, তার ওপর বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা আধিকারিকদের।‘

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কোনও ধরনের কালোবাজারি বরদাস্ত করা হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন ‘হোর্ডিং, অবৈধ মজুত, অতিরিক্ত দাম নেওয়া বা কালোবাজারি বরদাস্ত করা হবে না। সেদিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনে মজুতদারদের থেকে জ্বালানি গ্যাস বাজেয়াপ্ত করবে রাজ্য সরকার।‘

এই পরিস্থিতিতে রাজ্য বাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘রাজ্যবাসীর সুবিধার্থে, রাজ্য সরকার সর্বক্ষণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। গ্যাস সাপ্লাইয়ের বিষয়টি রয়েছে কেন্দ্রের হাতে। এটা রাজ্য সরকারের হাতে না থাকলেও, বাংলার মানুষকে সঙ্কটমুক্ত করতে আমরা বিষয়টি নজর রাখছি এবং নিয়মিত মনিটর করছি’।

এছাড়া গ্যাস সংকট মেটাতে সরকারি তরফে ১২ জনের নজরদারি কমিটি গড়ে দেওয়া হয়েছে।