উত্তরপ্রদেশজুড়ে ভয়াবহ (UttarPradesh) ঝড় ও ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত জনজীবন। অযোধ্যা, বারাণসী, গাজ়িয়াবাদ-সহ রাজ্যের প্রায় ৩০টি জেলা প্রবল দুর্যোগের কবলে পড়েছে। কোথাও ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া, তার সঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিতে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৮৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৫০ জনেরও বেশি মানুষ। প্রশাসনের আশঙ্কা, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে প্রয়াগরাজ (Prayagraj) , প্রতাপগড়, ভদোহী, ফতেহপুর, উন্নাও, কানপুর দেহাত, চন্দৌলি, সোনভদ্র এবং বদায়ুঁ জেলায়। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি প্রয়াগরাজে, যেখানে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভদোহীতেও একাধিক প্রাণহানির খবর মিলেছে। এছাড়া ফতেহপুরে ৯ জন, বদায়ুঁতে ৫ জন, প্রতাপগড়ে ৪ জন এবং চন্দৌলি ও কুশীনগরে দু’জন করে প্রাণ হারিয়েছেন। সোনভদ্রে মারা গিয়েছেন একজন।
প্রয়াগরাজের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। হান্ডিয়া এলাকায় ৭ জন, ফুলপুর ও সোরাওয়ে ৩ জন করে এবং মেজা ও সদর এলাকায় কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে ঝড়ের কারণে। বরেলীতে ঝড়ের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, টিনের ছাউনি-সহ এক ব্যক্তিকে প্রায় ৪৫ ফুট উঁচুতে তুলে ১০০ মিটার দূরে ছিটকে ফেলে দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঝড়ের পাশাপাশি বহু জেলায় প্রবল বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিও হয়েছে। বিশেষ করে মথুরা, উন্নাও এবং প্রয়াগরাজে শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বহু জায়গায় গাছ উপড়ে পড়েছে, বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গিয়েছে এবং কাঁচাবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গবাদি পশুর মৃত্যুর ঘটনাও সামনে এসেছে।
দেওরিয়া, বারাবাঁকি এবং সীতাপুর জেলার প্রায় ২,০০০টি গ্রাম বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। প্রশাসন উদ্ধারকাজ শুরু করেছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যে তৎপর হয়েছে।
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath) সব জেলা প্রশাসনকে দ্রুত ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আহতদের চিকিৎসা এবং মৃতদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
আবহাওয়া দফতরের মতে, পশ্চিমি ঝঞ্ঝার প্রভাবেই এই আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টি। তবে শুক্রবার থেকে বুন্দেলখণ্ড এবং দক্ষিণ উত্তরপ্রদেশে আবার তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।





