Header AD

সরকারি কর্মীদের জন্য কড়া বিধিনিষেধ, নতুন নির্দেশিকা জারি শুভেন্দু সরকারের

suvendu committee

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী( Suvendu Adhikari) দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রশাসনে একের পর এক কড়া পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। বুধবার রাজ্যের প্রশাসনিক ও কর্মিবিনিয়োগ দফতরের তরফে সরকারি আধিকারিক এবং কর্মচারীদের জন্য নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশিকায় সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য করা, সরকারি তথ্য প্রকাশ বা বিভিন্ন মিডিয়া অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের উপর একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল (Manoj Agarwal) এই নির্দেশিকা সমস্ত সরকারি দফতর, জেলা প্রশাসন, কমিশনারেট এবং পুলিশ প্রশাসনের কাছে পাঠিয়েছেন। নির্দেশে বলা হয়েছে, দ্রুত এই সার্কুলার সমস্ত অধীনস্থ অফিসে পৌঁছে দিতে হবে এবং কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে।

নবান্ন সূত্রে খবর, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু সরকারি কর্মচারীর সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য, সামাজিক মাধ্যমে মত প্রকাশ এবং প্রশাসনিক তথ্য বাইরে চলে যাওয়ার অভিযোগ ওঠার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এর ফলে সরকারি কর্মচারীদের সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগের উপর আরও কড়া নজরদারি চালানো হবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আইএএস, ডব্লিউবিসিএস, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সার্ভিসের আধিকারিকদের পাশাপাশি অন্যান্য সরকারি কর্মচারী, জেল কর্মী, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মী, পুরসভা, পুরনিগম ও বিভিন্ন স্বশাসিত সংস্থার কর্মীদের ক্ষেত্রেও এই বিধি কার্যকর হবে।

সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনও সরকারি কর্মচারী কোনও মিডিয়া প্রোগ্রামে অংশ নিতে পারবেন না। এমনকি বেসরকারি বা স্পনসরড অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এ ছাড়া সংবাদমাধ্যমের কাছে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কোনও সরকারি তথ্য, নথি বা প্রশাসনিক কাগজপত্র তুলে দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অনুমতি ছাড়া সংবাদপত্র বা সাময়িকীতে লেখা, কোনও পত্রিকা সম্পাদনা বা পরিচালনার সঙ্গেও যুক্ত থাকা যাবে না। রেডিও বা অন্য সম্প্রচার মাধ্যমেও বক্তব্য রাখার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীরা কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সমালোচনামূলক মন্তব্য করতে পারবেন না। এমন কোনও মন্তব্য বা প্রকাশনা, যা কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক বা বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, এই নির্দেশিকার ফলে সরকারি কর্মচারীদের মত প্রকাশের পরিসর আরও সংকুচিত হল। যদিও সরকারের দাবি, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সরকারি তথ্যের অপব্যবহার রোধ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকা ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।