ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রীর সভার আগেই কলকাতার গিরিশ পার্ক এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়াল। রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা (Shashi Panja)-র বাড়ির সামনে ফ্লেক্স ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় ভাঙচুর, ইটবৃষ্টি ও একাধিক আহতের খবর মিলেছে। আক্রমণ করা হয়েছে মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়িতেও।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রীর সভায় যোগ দিতে বিভিন্ন জেলা থেকে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা বাসে করে কলকাতায় আসেন। অভিযোগ, গিরিশ পার্ক এলাকায় মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়ির সামনে থাকা ‘বয়কট বিজেপি’ লেখা ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন বিজেপি কর্মীরা। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

মন্ত্রী শশী পাঁজার অভিযোগ, “বহিরাগতদের নিয়ে ব্রিগেডে সভা করছে বিজেপি। আর এই বহিরাগতরাই বাস থেকে নেমে আমার বাড়ির সামনে প্ল্যাকার্ড ছিড়ে পালিয়ে গিয়েছে। কেন? সাহস থাকলে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মোকাবিলা করুক। এত কাপুরুষ যে মেন রাস্তার উপর আমার বাড়ির ঢোকার মুখে ওরা ভাঙচুর করেছে। ইট ছুড়েছে, আমার বাড়ির জানলার কাচ ভেঙে গিয়েছে।” তাঁর আরও অভিযোগ “ওরা বাস থেকে নেমে তৃণমূলের কর্মীদের মারল। ওরা মিছিলে যাচ্ছিল বাসে করে ইট, বোতল, লাঠি , বোম নিয়ে। কী নেই ওদের সঙ্গে! আমি বলব এরা গুণ্ডা, শুধু গুণ্ডা নয় এরা খুনি। যেভাবে তারা আক্রমণ করল এই বাড়ি, পর পর আক্রমণ করেছে, পুলিশকেও আক্রমণ করেছে। গুণ্ডারা যাচ্ছে ব্রিগেডে! এরা বাংলা দখল করবে?আমাকে ইট দিয়ে মেরেছে।” ঘটনার সময় তিনি বাড়িতেই ছিলেন বলে খবর। আহতদের ইতিমধ্যেই হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে পালটা অভিযোগ করা হয়েছে, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ে মন্ত্রীর বাড়ির সামনে পোস্টার ছেঁড়ার পর তৃণমূল কর্মীরাই তাঁদের বাস আটকে হামলা চালায়। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষের মাঝে পড়ে আহত হন উত্তর কলকাতার বিজেপি সভাপতি তমঘ্ন ঘোষ (Tamoghna Ghosh)। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কলকাতা পুলিশের বিশাল বাহিনী। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে বউবাজার থানার ওসিও আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে র্যাফ নামানো হয়েছে।
পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।





