জল্পনাটা চলছিল অনেকদিন থেকেই। অবশেষে সেই জল্পনা সত্যি করেই ঠিকানা বদল করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। বদলে যাচ্ছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বা CEO-এর দপ্তরের ঠিকানা। দীর্ঘ ১৮ বছর পর শতবর্ষ প্রাচীন বামার অ্যান্ড লরি ভবন ছেড়ে নতুন ঠিকানায় উঠে যাচ্ছেন কমিশনের আধিকারিকরা। শুক্রবার থেকেই জোরকদমে শুরু হয়ে গিয়েছে পুরনো অফিসের জিনিসপত্র গোছানোর কাজ। এবার তাঁরা যাচ্ছেন শিপিং কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া’-র ভবনে। সোমবার থেকেই নতুন ঠিকানায় কাজ করা শুরু করবে রাজ্য CEO দপ্তর।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন এই অফিস আকারে অনেকটাই বড় যাতে একাধিক কর্মী সেখানে একসঙ্গে খুব সহজেই কাজ করতে পারবেন। আগামী সপ্তাহ অর্থাৎ সোমবার থেকেই পুরোদমে ‘শিপিং কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া’-র ভবনে কাজ শুরু হয়ে যাবে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।
রাজ্যে নির্বাচন কমিশনের (West Bengal State Election Commission) এই দপ্তর বদলের ইতিহাস কিন্তু বেশ চমকপ্রদ। ২০০৫ সালে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর ছিল খোদ মহাকরণ বা রাইটার্স বিল্ডিংয়ে। কিন্তু রাইটার্সে কেন অফিস তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করে বিরোধীরা। রাইটার্সে অফিস থাকার অর্থ কেন্দ্রীয় কমিশনকে রাজ্য সরকার সহজেই নিয়ন্ত্রণ করছে!
এই গুঞ্জনের মাঝেই দিল্লির নির্বাচন কমিশন নির্দেশ দেয়, অবিলম্বে রাইটার্স থেকে সিইও-এর দপ্তর সরিয়ে নিতে হবে। সেই নির্দেশিকা পেয়েই তৎকালীন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দেবাশিস সেন ক্যামাক স্ট্রিটের একটি অফিসে দপ্তর স্থানান্তরিত করেন।
২০০৬ সালে ফের ক্ষমতা দখল করে বামেরা। সেই সময় ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসটিতে অন্যান্য দপ্তর স্থানান্তরিত হওয়ায়, নতুন করে জায়গার খোঁজ শুরু করে কমিশন। এরপর ২০০৯ সালে দেবাশিস সেনের নেতৃত্বেই সিইও দপ্তর চলে আসে শতবর্ষ প্রাচীন এই বামার অ্যান্ড লরি ভবনে।
যদিও ততদিনে বঙ্গে উঠে গিয়েছে ঘাসফুল ঝড়। লোকসভা ভোটে তৃণমূলের একাধিক আসন জেতা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রেলমন্ত্রী হওয়া, সব মিলিয়ে বিধানসভাতেও যে ক্ষমতার হাতবদল হতে পারে, সেই আঁচ পেতে শুরু করেছিলেন অনেকেই। শেষমেশ ২০১১ সালে বাম জমানার অবসানের ঠিক আগেই বামার অ্যান্ড লরি ভবনের দুটি ফ্লোর নিয়ে পাকাপাকিভাবে জোরকদমে কাজ শুরু করে সিইও দপ্তর। এবার সেখান থেকেও তাঁরা উঠে যাচ্ছে। চলে যাচ্ছে হাইকোর্টের পাশে শিপিং কর্পোরেশনে।
কমিশনের সূত্রে জানা গিয়েছে, জায়গার অভাব ও গত বছরের অগ্নিকাণ্ডের কারণে নতুন ভবনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভোটার তালিকা সংশোধনের চাপে এতদিন স্থানান্তর সম্ভব হয়নি। চলতি বছরের শুরুতে ফের উদ্যোগ নেওয়া হয়। চৈত্র মাসে গৃহপ্রবেশ নিয়ে আপত্তি থাকলেও দেরি না করে সিদ্ধান্ত নেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। শুক্রবার থেকে জিনিস সরানোর কাজ শুরু হয়েছে, সোমবার থেকে নতুন ভবনে কাজ শুরু হবে।
রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অধীনেই সিইও দপ্তর কাজ চালালেও, স্বতন্ত্র দপ্তরের দাবি জানিয়ে আগেই নির্বাচন কমিশন রাজ্যকে চিঠি দেয়। এই পরিস্থিতিতেই দপ্তর সরছে কেন্দ্রীয় সংস্থা ‘শিপিং কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া’-র ভবনে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তাতেই রয়েছে সিইও দপ্তর ও আধিকারিকরা। জানা গিয়েছে, নতুন অফিসেও এই নিরাপত্তা বলয় বজায় থাকবে।





