Header AD
Trending

এখনও সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসেনি হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের আগুন! অগ্নিদগ্ধ কমপক্ষে ৩৫, বন্ধ ট্রেন চলাচল

haldia fire

হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসে (Haldia Petro Chemicals) ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড! মঙ্গলবার ভোরে হঠাৎ করেই হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালের একটি ন্যাপথা পাইপলাইন ফেটে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়।আগুনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে মুহূর্তে তা আশেপাশে ছড়িয়ে পড়ে।ভস্মীভূত হয়ে যায় একের পর এক বাড়ি। ঘটনায় অন্তত ৩৫ জন অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন বলে খবর। আহতদের মধ্যে ৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।তাঁদের ইতিমধ্যে গ্রিন করিডোর করে কলকাতায় আনা হয়েছে বলে খবর।ঘটনার পর বেশ কয়েকঘণ্টা কেটে গেলেও এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি আগুন। এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের জেরে হলদিয়া-পাঁশকুড়া রুটে বন্ধ ট্রেন চলাচল। যার জেরে চরম ভোগান্তিতে নিত্যযাত্রী থেকে সাধারণ মানুষ।

এদিন ঘটনাটি ঘটেছে হলদিয়ার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে চিরঞ্জিপুর এলাকায় পেট্রোকেমিক্যালে। এই এলাকার একেবারে পাশ দিয়েই গিয়েছে রেললাইন। আগুনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে ওভারহেড তার সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ট্রান্সফর্মারও। স্থানীয়দের দাবি, আগুনের তীব্রতায় লাইনের বেশ কিছু অংশও দুমড়ে গিয়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে ওই লাইনে বন্ধ রাখা হয়েছে ট্রেন চলাচল। বাতিল করা হয়েছে হলদিয়া-হাওড়া-হলদিয়া লোকাল ট্রেনটিকে। রুট বদল করা হয়েছে ৩৮০৫১ হাওড়া-হলদিয়া লোকালের। জানা গিয়েছে, হলদিয়ার বদলে দুর্গাচক পর্যন্ত চালানো হবে ট্রেনটিকে।

এদিকে ঘটনার পর দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ঘটনাস্থলে ছুটে যান রেলের আধিকারিকরা। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে থাকায় কাজ করতে রীতিমতো চ্যালেঞ্জের মুখে কর্মীরা। অন্যদিকে ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্কে স্থানীয় মানুষজন। স্থানীয় এক মহিলা জানান, সবাই রাতে ঘুমাচ্ছিলেন। হঠাৎ করে আগুন ধরে যায়। আতঙ্কে সবাই বেরিয়ে ছোটাছুটি শুরু করে দি। প্রাণে রক্ষা পেলেও আগুনে গ্রাসে চলে গিয়েছে সম্পূর্ণ বাড়ি। আরও এক ব্যক্তির দাবি, সন্ধ্যা থেকেই গ্যাসের গন্ধ বের হচ্ছিল। সংস্থাকে জানানোও হয়েছিল। কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কিনা তা বলতে পারেননি তিনি।

স্থানীয়দের কথায় ভোররাতে এলাকায় বৃষ্টি হচ্ছিল। সেই সঙ্গে বজ্রপাতও চলছিল সমান তালে। এরমধ্যেই পেট্রোকিমিক্যালস থেকে বিশাল বিস্ফোরণের শব্দ হয়। এরপরই দেখা যায় চারপাশজুড়ে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। আতঙ্কে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। অন্যদিকে ঘটনাস্থলে এখনও পর্যন্ত ১২টি ইঞ্জিন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। তবে সংস্থার বিরুদ্ধে উদাসীনতার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ শুরু করেছেন কর্মীরা।