Header AD

‘আজ রাত থেকেই অপারেশন শুরু হবে!’ খণ্ডঘোষের সভায় কীসের আশঙ্কা প্রকাশ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো

cm kheshiyari

ভোটের আগে অনেককে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা হবে বলে রবিবার খণ্ডঘোষের জনসভা থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষের সভায় তিনি বলেন, “অনেককে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা হবে।আজ মধ্যরাত থেকে অপারেশন শুরু হবে শুনেছি। খবর আমরাও পাই।” সম্প্রতি বঙ্গ ভোটের আবহে তৃ়ণমূলের প্রথম সারির একাধিক নেতা-মন্ত্রীকে তলব করেছে ইডি। ইডির এই ‘তৎপরতা’র সূত্রেই মুখ্যমন্ত্রী ওই ‘অপারেশন’ মন্তব্য করেছেন কি না, তা অবশ্য স্পষ্ট করেননি।

তবে এদিন খণ্ডঘোষের জনসভা থেকে ফের দলীয় কর্মীদের ইভিএম, ভোটের গণনা নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি। মঞ্চে বসে থাকা দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা, “ভোটের মেশিন নিয়ে খুব সাবধান। এদের প্ল্যান হল স্লো ভোটিং, স্লো কাউন্টিং। প্রথমে দেখাবে বিজেপি জিতছে। বুঝতেই পারছেন আমাদের কাদের সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে। টেক কেয়ার, বুদ্ধি খরচ করে কাজ করুন। টিভিতে যদি দেখায় ওর জিতছে, মিথ্যে বলছে।” তবে সব বাধা কাটিয়ে জয় নিয়ে নিশ্চিত তৃণমূল নেত্রী। বললেন “আমরাই জিতব। কোনও ক্ষমতা নেই, আমাদের হারাবে”।বহিরাগতদের দিয়ে ভোট লুটের চক্রান্তের আশঙ্কাও করেছেন তিনি।

উল্লেখ্য, রবিবার মোট ৩টি জনসভা করেন মমতা। প্রায় প্রতিটি সভামঞ্চ থেকে ভোটারদের সতর্ক করেছেন তিনি। শনিবার ঝাড়গ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা থেকে ফেরার পথে ওআরএস ভেবে কীটনাশক খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন ১৬ জন। তাঁদের বেশিরভাগই শবর সম্প্রদায়ের। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি তৃণমূলের বুথ সভাপতি টুকারাম মাহাতোও। সেই প্রসঙ্গেই সতর্ক করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। রবিবার বাঁকুড়ার ছাতনার সভা থেকে দলীয় নেতা কর্মীদের বাইরের খাবার খাওয়া নিয়ে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, “ভোটের সময় দেখে দেখে খাবেন। বাইরে যে যা দেবে, খাবেন না।যে কোনও কিছু বাইরে খাওয়ার আগে দেখে নেবেন, ঠিক জিনিসটা খাচ্ছেন কি না।’’ তার পরেই মমতা বলেন, ‘‘আমি বাইরে কিছু খাই না। যে কোনও কিছু বাইরে খাওয়ার আগে দেখে নেবেন, ঠিক জিনিসটা খাচ্ছেন কি না। বিশেষ করে রাজনীতিক, ডাক্তার, প্রশাসনিক কর্তারা, উল্টোপাল্টা জিনিস খাবেন না। কারণ, তাঁদের কাজ ২৪ ঘণ্টার। যে কোনও সময় কাজ করতে হয়।তাই সতর্ক থাকুন,‌ তাঁদের যাতে কেউ বিষাক্ত খাবার দিতে না-পারে।’’

খণ্ডঘোষের সভা থেকে হুমায়ুন কবীরের ‘বিতর্কিত’ ভিডিয়ো নিয়ে মুখ খোলেন মমতা। এই সূত্রে নাম না-করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তোপ দাগেন তিনি। বলেন, “দেখছেন তো একটা পার্টিকে ভাগ করার জন্য ১০০০ কোটি টাকার ডিল (চুক্তি) করেছে। বলছে, ভিডিয়োটি না কি আর্টিফিশিয়াল (এআই)।” তার পরেই হুমায়ুন এবং মোদীর নাম না-করে তাঁর কটাক্ষ, “যে করেছে সে বলছে ভিডিয়োটি সত্যি। বলছি, আর কত শাক দিয়ে মাছ ঢাকবেন?”