কালীঘাটে টানটান উত্তেজনা! ২০ বছর ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা রক্ষীদের বুধবার রাতে আচমকাই সরানো হয়েছে। তার বদলে তিন জন নতুন অপরিচিত নিরাপত্তাকর্মীকে নিয়োগ করা হয়েছে। বুধবার রাতে এমনটাই দাবি করলেন তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। যদিও পুলিশের তরফে দাবি করা হয়েছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী যে স্তরের নিরাপত্তা পেতেন সেটাই বহাল রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বুধবার সকালের দিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ির ভোলবদল হয়। বাড়ির সামনে উঠোনে বসানো হয়েছে ‘ভিউ কাটার’। প্রশ্ন উঠছে, ডিম হামলা থেকে বাঁচতে কি এই সিদ্ধান্ত? সবমিলিয়ে কালীঘাটে যে টানটান উত্তেজনা, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
সোশ্যাল মিদিয়ায় পোস্ট করে ডেরেক দাবি করেন, দীর্ঘ ২০ বছর ধরে মমতার নিরাপত্তার দায়িত্বে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের বুধবার সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ হঠাৎ করেই তিন জন অপরিচিত নিরাপত্তাকর্মীকে মমতার বাড়িতে পাঠানো হয়। এই মর্মে প্রথমে ডেরেক এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্ট করেন। তার পর ফেসবুক লাইভ গোটা বিষয়টি তুলে ধরেন। তাঁর আরও দাবি, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাব রয়েছে।
ডেরেকের প্রশ্ন, “আচমকা কেন এই বদল করা হল? ভবানীপুরের নির্বাচন ফলাফল সংক্রান্ত মামলা করেছেন বলে? বুধবার হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মিছিল করেছেন বলে? কী চলছে এখানে?”
রাতে তৃণমূলের ফেসবুক পাতা থেকে একটি লাইভ করা হয়। সেখানে দেখা যায় দলের কর্মীরা মমতার কালীঘাটের বাড়ির সামনে মাঝরাতে হাজির হয়েছেন। দলের কর্মীদের প্রশ্ন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এত বছরের পুরনো নিরাপত্তারক্ষীদের তাঁদের দায়িত্ব থেকে বিনা নোটিশে সরিয়ে দেওয়া হল কেন? তাঁদের বার্তা, “এ ভাবে ভয় দেখানো যায় না। এ ভাবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি থেকে নিরাপত্তারক্ষীদের সরিয়ে নেওয়া যায় না। প্রয়োজন পড়লে আমরা রোজ দিন-রাত এ ভাবেই তৃণমূল নেত্রীর বাড়ির সামনে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করব।”

এদিকে এই ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে নিশানা করে সমাজমাধ্যমে পোস্টও করেছেন সাংসদ।দলের আরেক সাংসদ সাগরিকা ঘোষও এই প্রসঙ্গে এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেন। কেন দীর্ঘদিনের কর্মীদের প্রত্যাহার করা হল, কেনই বা গভীর রাতে মমতাকে নিরাপত্তাহীন করে দেওয়া হল, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি।





