Header AD

‘বাংলা দখল করে রাজ্যটকেই তুলে দিতে চায়’! ইস্তেহার প্রকাশের আগে বিজেপি-কমিশনকে তোপ তৃণমূল নেত্রীর

mamata banerjee

বঙ্গে ভোটের দামামা বাজতেই নির্বাচন কমিশন (Election Commission Of India) নজিরবিহীনভাবে প্রশাসনিক ও পুলিশের শীর্ষপদে রদবদল করেছে। কমিশনের নির্দেশে বদল করা হয়েছে একাধিক জেলাশাসক থেকে শুরু করেন ডিজি, আইজিদেরও। তা নিয়ে একাধিকবার কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)। শুক্রবার কালীঘাটের বাড়ি থেকে নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশের আগে বিজেপিকে নিশানা করে একের পর এক আক্রমণ শানালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর কথায়, “এখানে অঘোষিত রাষ্ট্রপতি শাসন চলছে। মুখে বলছে না। কাজে প্রমাণ করেছে। লজ্জা! এর মধ্যেই ভোট করাচ্ছে বাংলায়।” একই সঙ্গে তিনি কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে বলেন, “এত ভয় কীসের?” এরপরই তাঁর অভিযোগ, “বাংলা রাজ্যটা থাক, সেটাই চায় না বিজেপি (BJP Party)। তাই ভোটের পর আসন পুনর্বিন্যাস চাইছে। প্রধানমন্ত্রী আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী – দুই ভাই মিলে এসব করছে। ওরা বাংলা দখল করে রাজ্যটকেই তুলে দিতে চায়।”

শুক্রবার কালিঘাটের বাসভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূল নেত্রী কমিশনের নির্দেশে রাজ্যে প্রশাসনিক রদবদল নিয়ে গর্জে ওঠেন। তিনি বলেন, “এ বারের চক্রান্ত সব চক্রান্তকে ছাপিয়ে গিয়েছে।প্রতিবার যখন পর্যবেক্ষক চায়, আমরা দিই। এ বার এই রাজ্যেই নির্বাচন। ভিন্‌রাজ্যের মানুষ কি বাংলাকে চেনে? এখানেকার মানুষকে চেনে না, সংস্কৃতি, সম্প্রীতি, বুথ, সাবডিভিশন কিছু চেনে না। এখানকার উৎসব চেনে না। কে দেখবে এসব? এর পর কোনও ঘটনা ঘটলে দায়ী থাকবে বিজেপি সরকার। কমিশন তো বিজেপির তোতাপাখি।”

কমিশনের সিদ্ধান্তকে ধিক্কার জানিয়ে তৃণমূল নেত্রী তোপ দেগে বলেন, “বাংলায় অঘোষিত রাষ্ট্রপতি শাসন করে মোদীজিকে ভোট করাতে হচ্ছে? বাংলার মানুষকে এত ভয়। আমরা বলি, ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হয়। ইংরেজদের রাজধানী ছিল কলকাতা। ভয়ে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। বুঝেছিল এখানকার মানুষকে দমানো যাবে না। তাঁরা মাথানত করে না। একই কারণে বাংলা ওদের অনেক দিনের টার্গেট। ওরা চায় না বাংলা রাজ্য থাক, ভাষা, অস্মিতা, মেধা থাক। আইআইএম যদি লক্ষ্য করেন, সারা পৃথিবীতে বাংলার ছেলেমেয়েরা ছড়িয়ে রয়েছে। তাই বাংলাকে টার্গেট করছে। ওরা জেলাস।”

তিনি অভিযোগ করেন, “এ দেশে এখন আইন, সংবিধান নেই। মানুষ কার কাছে বিচার পাবে? বিচারের জায়গাগুলি কিনে নিয়েছে। হয় জুজুর ভয়ে, নয় লোভ! এই ২টো জিনিস দেশে কাজ করছে।” বিজেপি সরকারকে নিশানা করে তিনি বলেন, “মোদীর হাত থেকে দেশ উদ্ধার করা আমাদের প্রায়োরিটি।” সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর আবেদন, “বাংলাকে যদি বাঁচাতে হয়, সব মানুষকে এক সঙ্গে থাকতে হলে, শান্তি, সম্প্রীতি রক্ষা করতে হলে বিজেপি-কে এমন শিক্ষা দিন যে, কেন্দ্রীয় এজেন্সি ভয় দেখালে শুনবেন না। টাকার প্রলোভনে পা দেবেন না। আইএএস, আইপিএস-দের বদলেছে, বর্ডার থেকে বন্দুক, মাফিয়া, টাকা ঢোকাচ্ছে। দাঙ্গা লাগানোর চক্রান্ত করছে। বাংলার মানুষকে আঘাত করেল তারা প্রত্যাঘ্যাত করতে জানে।”

একই সঙ্গে তিনি বলেন, “হিন্দু-বৌদ্ধ-শিখ-জৈন সকলের কথা বলছি। এই অত্যাচারী মোদীর সরকার, এজেন্সি দিয়ে মানুষকে লুটের সরকার, কৃষক-বিরোধী সরকার, খুব শীঘ্র চলে যাবে। সরাসরি মোদি-শাহর নাম করে বিঁধে তৃণমূল নেত্রীর ঝাঁজাল বক্তব্য, “দুই ভাই মিলে দাঙ্গা, যুদ্ধ, রাজনৈতিক থেকে গণতান্ত্রিক চক্রান্ত, দেশভাগের চক্রান্ত করছে। স্বৈরাচারী মনোভাব এদের। সর্বসান্ত করছে মানুষকে।”