রাজ্যের দোরগোড়ায় বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Assembly Election 2026) । তার আগে ভোটার তালিকা নিয়ে চরম বিশৃঙ্খলা এবং অস্বচ্ছতার অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেসের। এবার এই ইস্যুতে বৃহস্পতিবার ফের রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দ্বারস্থ হল রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল । এদিনের প্রতিনিধি দলে ছিলেন সংসদ বাপি হালদার (Bapi Halder), রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya) ও শশী পাঁজা (Dr. Shashi Panja)। কিন্তু এদিনের বৈঠক থেকে কোনও সদুত্তর তো মিললই না, উলটে সিইও নিজের দায় এড়িয়েছেন বলে অভিযোগ করে ঘাসফুল শিবির। বৃহস্পতিবার CEO-র সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলন করে নির্বাচন কমিশনকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। তাদের দাবি, গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ‘প্রহসনে’ পরিণত করার চক্রান্ত চলছে এবং ভোটারদের আইনি জটিলতার মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে তৃণমূল সংসদ বাপি হালদার অভিযোগ করেন, কমিশনের পোর্টালে ভোটার তালিকা ঠিকমতো দেখা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে সিইও-কে প্রশ্ন করা হলে তিনি প্রায় ৪০ মিনিট কোনও উত্তর দিতে পারেননি। সিইও নিজের আধিকারিকদের এ বিষয়ে জিজ্ঞাস করলে তারাও ঠিক মতো উওর দিতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, “সিইও সাহেব নিজেই বলছেন যে, ‘আমি কিছুই করতে পারছি না। জাস্ট বসে আছি, সব ইসিআই করছে।’ আগামী ৬ই এপ্রিল প্রথম দফার জন্য ভোটার লিস্ট ফ্রিজ হবে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কত জনের নাম বাদ গিয়েছে, কতগুলো কেস ডিসপোজ হয়েছে, তার কোনও উত্তর তিনি দিতে পারছেন না। নির্বাচনটাকে প্রহসনে পরিণত করার চক্রান্ত চলছে।” এছাড়া ECI-র চুক্তিভিত্তিক কর্মী ও অবজার্ভার নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাপ্লিমেন্টারি ভোটার লিস্ট বা সংযোজিত তালিকা পোর্টালে দেখা যাচ্ছে না। পিডিএফ ডাউনলোড হলেও তা অর্ধেক বা বিক্ষিপ্তভাবে খুলছে। তিনি বলেন, “প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় যে ১৫২টি কেন্দ্রে ভোট হবে, সেখানকার ভোটাররা বা প্রার্থীরা জানেনই না তাঁদের নাম তালিকায় আছে কি না! ৬ বা ৭ এপ্রিল তালিকা ফ্রিজ হয়ে যাবে, অথচ জুডিশিয়াল অফিসারের কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। এটা অত্যন্ত অগণতান্ত্রিক এবং বেআইনি।” শশী পাঁজা আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ অবজার্ভার নিয়োগের ক্ষেত্রেও চূড়ান্ত অস্বচ্ছতা রয়েছে। বিহারের এক বিজেপি নেত্রীর স্বামীকে মালদহের পুলিশ অবজার্ভার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর প্রশ্ন, “ ১০ লক্ষ নাম ডিলিট হওয়ার খবর সংবাদমাধ্যমে ভাসছে, অথচ আমাদের কাছে কোনও স্পষ্ট তালিকা নেই। ৫৫ শতাংশ কেস মাত্র নিষ্পত্তি হয়েছে। বাকিদের কী হবে?”
ভোটার তালিকা থেকে যাঁদের নাম বাদ পড়ছে, তাঁদের কীভাবে ট্রাইবুনালে আপিল করতে হবে, সে বিষয়েও সিইও সম্পূর্ণ অন্ধকারে রয়েছেন বলে দাবি করেন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য্য। তিনি বলেন, “আমরা জিজ্ঞাসা করেছিলাম, ট্রাইবুনাল কোথায় বসবে? কে থাকবে? ১৫ দিনের মধ্যে যে আপিল করার কথা, তার নিয়ম কী? সিও বলছেন, “আমার কাছে সদুত্তর নেই, সব কোর্ট মনিটরিং করছে, আপনারা কোর্টের কাছে যান।” এ বিষয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, কমিশন নিজের দায়িত্ব পালন না করে সব দায় সাধারণ ভোটার এবং রাজনৈতিক দলের ঘাড়ে চাপাচ্ছে। তবে কি তৃণমূল এই পরিস্থিতিতে ভোট চাইছে না? সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য্য স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “ভোটটা করতেই হবে এবং নির্দিষ্ট সময়েই সরকার গঠন হবে। তৃণমূল ভোট পিছনোর কথা বলছে না। আমরা শুধু চাই সকল সাধারণ মানুষ যাতে সঠিকভাবে ভোট দিতে পারে।”





