কালীঘাটে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের উপর ডিম ছোঁড়ার ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ করল পুলিশ। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরোনোর আগেই মূল অভিযুক্ত চন্দন সিং এবং রবি কয়াল নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে কালীঘাট থানার পুলিশ। কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh) দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতেই এই গ্রেপ্তারি হয়েছে।
মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যমে গ্রেপ্তারির খবর জানিয়ে কুণাল ঘোষ দাবি করেন, ধৃতদের বিরুদ্ধে তুলনামূলক হালকা ধারায় মামলা করা হয়েছে, ফলে তারা দ্রুত জামিন পেয়ে যেতে পারেন। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, যিনি তাঁর উপর হামলা করেছেন, তিনি অতীতে সিআইডির তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে সাক্ষী হিসেবেও গিয়েছিলেন। বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার সন্ধ্যায় কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় এই হামলার মুখে পড়েন কুণাল ঘোষ। সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টা নাগাদ তিনি বাড়ি থেকে বের হতেই এক যুবক তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়ে মারেন। নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও ডিমটি তাঁর মাথায় লাগে।
রাজ্যে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে ডিম ছোড়ার ঘটনা বারবার সামনে আসছে। প্রথমে সোনারপুরে নিহত এক কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে ডিম হামলার শিকার হন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক তৃণমূল নেতা, বিধায়ক, চেয়ারম্যান এবং কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে একই ধরনের বিক্ষোভ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনার পর সোমবার রাতেই কালীঘাট থানায় এফআইআর দায়ের করেন কুণাল ঘোষ। তদন্তে নেমে প্রথমে রবি কয়ালকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূল অভিযুক্ত চন্দন সিংয়ের খোঁজ শুরু হয়। মঙ্গলবার সকালে তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের আগে চন্দন সিং সংবাদমাধ্যমের সামনে দাবি করেছিলেন, “অনেক অন্যায় করেছে। এটা ওনার প্রাপ্য ছিল।” যদিও এই অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ করেন কুণাল ঘোষ। তাঁর প্রশ্ন,“কে অত্যাচার করেছে? আমি করেছি? মমতাদি করেছে? করলে থানা-পুলিশ করেছে। তার দায় আমার? ওকে জিজ্ঞেস করুন ওর চাকরি কে দিয়েছে?”

এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী-বিক্ষোভ নাকি পরিকল্পিত হামলা—তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।





