Header AD

ভোটের আগে নজিরবিহীন পদক্ষেপ! কমিশনের দখলে কলকাতা পুরসভা

kmc ec

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক ঐতিহাসিক এবং বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission Of India)। স্বাধীনতার পর এই প্রথমবার, কলকাতা পুরসভার (Kolkata Municipal Corporation) প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ কার্যত কমিশনের হাতে চলে গেল। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, এখন থেকে কলকাতা পুর কমিশনারের দপ্তরই উত্তর কলকাতার নির্বাচনী আধিকারিকের অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

বর্তমানে কলকাতা পুরসভার কমিশনার পদে থাকা আইএএস অফিসার সুমিত গুপ্তই উত্তর কলকাতার নির্বাচনী আধিকারিকের দায়িত্বও সামলাবেন। এর ফলে পুরসভার স্বাভাবিক প্রশাসনিক কাজকর্মেও বড় প্রভাব পড়তে চলেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কমিশনের নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, পুরসভার দৈনন্দিন কাজ পরিচালনার ক্ষেত্রেও এখন থেকে নির্বাচন কমিশনের অনুমতি নিতে হবে। এমনকি পুরসভার অধিবেশন ডাকা, কোনও বৈঠক করা—সবকিছুর জন্যই প্রয়োজন হবে কমিশনের সবুজ সংকেত। যা আগে কখনও দেখা যায়নি। এই পরিস্থিতিতে নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সাধারণ পরিষেবা যেমন—গাছ কাটা, আবর্জনা পরিষ্কার বা অন্যান্য জরুরি উদ্যোগ—সবকিছুর ক্ষেত্রেই অনুমতির জটিলতা তৈরি হতে পারে। যদিও পুর কমিশনারের দপ্তর থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, ন্যূনতম পরিষেবা চালু রাখা হবে, তবুও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ কমছে না।

অন্যদিকে, রাজ্যের শাসকদল এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের বক্তব্য, অতীতে ভোটের সময় কমিশনের প্রয়োজনীয় সবরকম সহযোগিতা করা হলেও এবার সমগ্র পুরসভাকেই নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। এর পাশাপাশি, নির্বাচনের আগে কমিশনের অঙ্গুলি হেলনে একাধিক প্রশাসনিক আধিকারিকের বদলি নিয়েও অসন্তোষ বাড়ছিল—এই সিদ্ধান্ত সেই ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করা হচ্ছে।