রাজ্যের সমস্ত সরকার ও সরকার পোষিত স্কুলে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা জাতীয় স্তোত্র ‘বন্দেমাতরম’ (Vandemataram)। স্কুল শুরুর আগে প্রার্থনায় পড়ুয়াদের গাইতে হবে এই গান। ইতিমধ্যেই এই মর্মে জেলার বিভিন্ন প্রাথমিক স্কুল শিক্ষকদের নিয়ে তৈরি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা একটি মেসেজ ফরোওয়ার্ড করেছেন। সেখানেই স্কুল শুরুর আগে ‘বন্দে মাতরম’ গান বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। এই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে জেলার বিভিন্ন স্কুলে এই বিষয়ে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগামী সোমবার থেকে রাজ্যর সমস্ত সরকারি স্কুলে প্রার্থনা সঙ্গীত হিসাবে বন্দে মাতরম চালু হচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে নবান্নে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হবে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এহেন পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। উল্লেখ্য, রাজ্যের স্কুলগুলিতে বর্তমানে গরমের ছুটি চলছে।সেই ছুটি বাড়িয়ে করা হয়েছে ৩১ মে পর্যন্ত। এরমধ্যেই একাধিক জেলায় ডিআই অর্থাৎ স্কুল পরিদর্শক এবং অন্যান্য আধিকারিকদের মোবাইল এবং হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ‘বন্দে মাতরম’ গান নিয়ে একটি মেসেজ পাঠানো হয়। শিক্ষাদপ্তর থেকে ওই মেসেজ পাঠানো হয়েছে বলে খবর। এই প্রসঙ্গে জেলার স্কুল পরিদর্শক এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাঁদের একটা হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ দিয়ে বিষয়টি কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন। ওই আধিকারিকের কথায়, এরপরেই ওই নির্দেশিকা বিভিন্ন স্কুল শিক্ষকদের গ্রুপে পাঠানো হয়েছে। খুব শীঘ্রই এই সংক্রান্ত লিখিত অর্ডার হাতে আসবে।
শিক্ষাদপ্তরের এহেন ঘোষণায় খুশি রাজ্যের বেশ কিছু শিক্ষক সংগঠন। তাদের মতে, সাম্প্রদায়িকতার নামে দেশের এই রাষ্ট্রগীত এত দিন স্কুলে বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। এই গীত দেশের সংস্কৃতির ধারক এহং বাহক। আমরা হিন্দু রাষ্ট্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। এই অবস্থায় স্কুলে স্কুলে এই গীত চালু করা অত্যন্ত ভালো উদ্যোগ।
অন্যদিকে বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, “বিকৃত ইতিহাসকে বদলের এটাই সঠিক সময়।” এহেন পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বিজেপি নেতা জানান, কেন্দ্রের তরফে এই বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন সরকার তা কার্যকর করতে দেয়নি। এখন সঠিক তথ্য তুলে ধরা হবে।





