Header AD
Trending

ভুয়ো এসটি সার্টিফিকেট কাণ্ডে গ্রেপ্তারের হুঁশিয়ারি ! হুল দিবসের মঞ্চে কড়া বার্তা শুভেন্দুর

suvendu hul

বাঁকুড়ার মুকুটমণিপুরে হুল দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাজ্যে এসটি সার্টিফিকেট নিয়ে বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, তৃণমূল সরকারের আমলে বিপুল সংখ্যক ভুয়ো এসটি সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে। এই দুর্নীতির সঙ্গে যারা জড়িত—সার্টিফিকেট প্রদানকারী এবং গ্রহণকারী—দু’পক্ষের বিরুদ্ধেই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর মঙ্গলবার এই প্রথম বাঁকুড়ায় সফরে গিয়ে হুল দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নেন শুভেন্দু। অনুষ্ঠানের শুরুতে সিধো-কানহোর মূর্তিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানান তিনি। এরপর ভাষণে আদিবাসী ও মূলবাসী সম্প্রদায়ের উন্নয়নকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে তুলে ধরেন।

শুভেন্দুর অভিযোগ, আগের সরকার জঙ্গলমহল ও আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকার উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। বরং আদিবাসী সমাজকে দীর্ঘদিন পিছিয়ে রাখা হয়েছে।

তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতি বদলাতে বদ্ধপরিকর এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নে একাধিক প্রকল্প ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলার মন্ত্রিসভায় আদিবাসী নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রেও তাঁদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়। পাশাপাশি আদিবাসী সমাজের রাজনৈতিক সমর্থনের কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজ্যের ১৬টি সংরক্ষিত আসনে বিজেপির জয় আদিবাসী সমাজের আস্থারই প্রতিফলন।

তৃণমূলকে আক্রমণ করে শুভেন্দু বলেন, তারা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকেও (Droupadi Murmu ) অপমান করেছে এবং আদিবাসী উন্নয়নে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেয়নি। এর বিপরীতে তাঁর সরকারের অঙ্গীকার—“হাতে কাজ, পেটে ভাত, মাথার উপর ছাদ।”

আদিবাসী উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার ৩৫০ কোটি টাকা বিশেষভাবে বরাদ্দ করেছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়া জঙ্গলমহলের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য বাজেটে ১২০০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। লোধা ও টোটো সম্প্রদায়ের খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বিশুদ্ধ পানীয় জল, শৌচালয় এবং হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

ভাষণের শেষে শুভেন্দু আদিবাসী সমাজকে ২০৪৭ সালের ‘বিকশিত ভারত’ গঠনের অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর বার্তা ছিল স্পষ্ট—আদিবাসীরা আর প্রান্তিক নয়, উন্নয়নের মূল স্রোতে সমান মর্যাদায় অংশ নেবে।