Header AD

‘মেঘের আড়াল থেকে খেলছেন কেন?’ বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ মমতার

বঙ্গে বিধানসভা ভোটের দামামা বেজে উঠেছে। নির্বাচন কমিশন রাজ্যে ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুদফায় ভোট হবে বলে ঘোষণা করেছে। এরই মধ্যে বিজেপি ও বামফ্রন্ট তাদের প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার শাসকদল তৃণমূলও ২৯১টি আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার বিকেলে কালীঘাটের বাড়ি থেকে প্রার্থী তালিকা ঘোষণার আগে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন—উভয়কেই কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। বিজেপিকে উদ্দেশ্য করে তাঁর কটাক্ষ, “এত ভয় পাচ্ছেন কেন? আপনাদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। গ্যাস ও পেট্রলের সংকট তৈরি না করে শান্তিপূর্ণ ও সৌজন্যমূলক ভাবে রাজনৈতিক লড়াই হোক।” একই সঙ্গে বিজেপিকে নিশানা করে তিনি কটাক্ষ করেন “বিজেপির কথায় মেঘের আড়াল থেকে কেন খেলছেন?”

একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও এদিন প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, কমিশন যেন পরোক্ষে বিজেপির পক্ষ নিচ্ছে। তীব্র ব্যঙ্গের সুরে বলেন, “মেঘের আড়াল থেকে কেন খেলছেন? সরাসরি মাঠে নামুন না। যখন সব আইন ভাঙছেন, তখন প্রকাশ্যে মঞ্চ বেঁধে বিজেপির হয়ে মিটিং করুন। আমরা হাসিমুখেই মেনে নেব। ”এরপরই ভোট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যের মুখ্য সচিব, সরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের বদলি নিয়েও কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। অভিযোগের সুরে বলেন, “এখনও নির্বাচণের নোটিফিকেশন জারি হল না তার আগেই পুলিশে রদবদল করলেন। একবারও রাজ্যকে জানালেন না।”

উল্লেখ্য, রবিবার ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার পরপরই নির্বাচন কমিশন রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিবসহ একাধিক শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে বদলি করে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ প্রশাসনেও বড়সড় রদবদল হয়। এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করে মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখেছেন। তবুও মঙ্গলবার কলকাতা এবং বিভিন্ন পুলিশ কমিশনারেটের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সরানো হয়।

এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্ন, “এবার ডিজাস্টার হলে কে দেখবে? সব দায়িত্ব কমিশন, বিজেপিকে নিতে হবে। আইনশৃঙ্খলার কিছু হলে কে দেখবে? কেন এসব করলেন? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার গণতন্ত্রের প্রতি ভরসা থাকলে বাংলাকে কেন টার্গেট করছেন? যত টার্গেট করবেন, তত বাংলার মানুষ প্রত্যাঘাত করবেন।ইদের আগে কেন সরালেন, দাঙ্গা লাগানোর অভিপ্রায় আছে নাকি?” ইদের আগে এই রদবদল নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর সন্দেহ, “আমরা একসঙ্গে থাকি, এভাবে দাঙ্গা লাগানোর চক্রান্ত চলছে না তো?” রাজ্যবাসীকে সতর্ক করে তিনি বলেন, “কোনও ঘটনা ঘটলে বিজেপির টুঁটি টিপে ধরবেন।”

রাজ্যবাসীর কাছে তাঁর আবেদন, “এবারের ভোট বাংলার অস্মিতা ও অস্বিত্ব রক্ষার লড়াই। এই লড়াইয়ে বাংলা জিতবে, দিল্লি নয়। সবার কাছে আবেদন, বয়কট বিজেপি, ভোট ফর তৃণমূল।”