পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসায় এক যুবকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, ভোটার তালিকায় নাম না ওঠা এবং ‘অনুপ্রবেশকারী’ তকমা পাওয়ার আশঙ্কা থেকেই মানসিক চাপে আত্মঘাতী হয়েছেন ওই যুবক। এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC), যদিও BJP বিভ্রান্তি ছড়ানোর পালটা অভিযোগ করেছে।
মৃত যুবকের নাম খেপা হাজরা (৩৫)। তিনি দিনমজুরের কাজ করতেন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ছিল না। পরবর্তীতে এসআইআর (SIRinBengal) প্রক্রিয়ার পর তাঁর নাম ‘বিচারাধীন’ তালিকায় রাখা হয়। শুনানিতে হাজিরা দেওয়ার পরেও সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় তাঁর নাম ওঠেনি, যা তাঁকে চরম মানসিক চাপে ফেলে।
পরিবারের দাবি, নাগরিকত্ব হারানোর আশঙ্কায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ ও অবসাদে ভুগছিলেন। শনিবার হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। পরে এলাকার একটি মাঠের পাশ থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তাঁকে। দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করার পর জানা যায়, তিনি বিষ পান করেছিলেন। দু’দিন চিকিৎসার পর সোমবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃতের স্ত্রী বৃন্দা হাজরা বলেন, “ভোটার তালিকায় নাম না ওঠার পর থেকেই ও খুব ভয়ে ছিল। ঠিকমতো খেত না, কারও সঙ্গে কথা বলত না। শেষ পর্যন্ত এই পথ বেছে নিল। এর জন্য নির্বাচন কমিশন (ECI) দায়ী।”
এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছেন দুর্গাপুর পূর্বের তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ মজুমদার। তাঁর বক্তব্য, “অনুপ্রবেশকারী তকমা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করা হয়েছে। বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও মানুষকে মানসিক চাপে ফেলা হচ্ছে।”
অন্যদিকে, বিজেপির জেলা মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডল এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এসআইআর অন্যান্য রাজ্যেও হয়েছে, কিন্তু এমন ঘটনা ঘটেনি। এখানে তৃণমূল মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। আমরা সবাইকে বলব, ভয় পাওয়ার কিছু নেই। বৈধ ভোটারদের নাম অবশ্যই তালিকায় উঠবে।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগও বাড়ছে।





