Header AD

২ আইপিএস আপাতত বদলি নয়, সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরেও পিছু হঠল কমিশন

সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরেও শেষমেশ পিছু হঠতে হল নির্বাচন কমিশনকে। আপাতত দুই আইপিএস অফিসার—মুরলীধর শর্মা এবং সৈয়দ ওয়াকার রাজাকে ভিনরাজ্যে অবজার্ভার হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশিকা না আসা পর্যন্ত এই দুই আধিকারিক বাংলাতেই নিজেদের দায়িত্ব পালন করবেন। প্রথমে তাঁদের অন্য রাজ্যে পাঠানোর পরিকল্পনা করা হলেও, হঠাৎই সেই সিদ্ধান্তে বদল আনা হয়। কী কারণে এই পরিবর্তন, তা নিয়ে স্পষ্টভাবে কিছু জানানো না হলেও প্রশাসনিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, বাকি ১৩ জন আইপিএস অফিসারকে ভিনরাজ্যে পাঠানোর সিদ্ধান্তে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। সূত্রের খবর, তাঁদের তামিলনাড়ু এবং কেরলে অবজার্ভার হিসেবে নিয়োগ করা হবে। সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিতে নির্বাচনী প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্যই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

ভোট ঘোষণার পর একাধিক আইপিএস আধিকারিককে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। পরে রাজ্য সরকার তাঁদের অন্যত্র পোস্টিং দিলেও, কমিশন আবার ১৫ জন আইপিএসকে ভিনরাজ্যে অবজারভার হিসেবে পাঠানোর নির্দেশ জারি করে। ওই তালিকায় ছিলেন রশিদ মুনির খান, সন্দীপ কারা, প্রিয়ব্রত রায়, প্রবীণ কুমার ত্রিপাঠি, মুকেশ, মুরলীধর শর্মা, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়, ধৃতিমান সরকার, সি সুধাকর, ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, আমনদীপ, আকাশ মাঘারিয়া, আলোক রাজোরিয়া এবং সৈয়দ ওয়াকার রাজা। তবে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নিজেদের সিদ্ধান্তে আংশিক বদল করল কমিশন। মুরলীধর শর্মা ও সৈয়দ ওয়াকার রাজাকে ভিনরাজ্যে পাঠানোর নির্দেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত আপাতত পশ্চিমবঙ্গেই দায়িত্বে থাকছেন এই দুই আধিকারিক।

ভোট ঘোষণার দিনেই কড়া পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের প্রশাসনিক ও পুলিশ মহলে একযোগে বড়সড় রদবদলের নির্দেশ জারি হয়েছে, যা রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। নির্দেশ অনুযায়ী, মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিব-সহ শীর্ষস্তরের একাধিক আধিকারিককে সরানো হয়েছে। পাশাপাশি কলকাতা পুলিশ কমিশনার, ডিজি এবং বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপারদেরও রাতারাতি বদল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায়গঞ্জ, মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান, প্রেসিডেন্সি ও জলপাইগুড়ি রেঞ্জের ডিআইজি-দেরও এই তালিকায় রাখা হয়েছে।

শুধু পুলিশ প্রশাসন নয়, জেলাস্তরেও বড়সড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, উত্তর দিনাজপুর, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, দার্জিলিং এবং আলিপুরদুয়ারের জেলাশাসকদের বদলির নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। এই হঠাৎ সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। রাজ্যের সঙ্গে কোনও আলোচনা ছাড়াই এই বদলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। ভোটের আগে প্রশাসনে এই ধরনের রদবদল কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।