Header AD

লোকসভায় ব্যর্থ ‘নারী শক্তি’ বিল! সমর্থন না পেয়ে মুখ পুড়ল কেন্দ্রর

loksabha

তীরে এসে তরী ডুবল। সমর্থন না পেয়ে লোকসভায় শেষ পর্যন্ত পাস করানো গেল না কেন্দ্রের আনা মহিলা সংরক্ষণ বিল ও লোকসভায় (Loksabha)আসনবৃদ্ধি সংক্রান্ত ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল। শুরু থেকেই এই বিল ঘিরে বিরোধীদের তীব্র আপত্তি ছিল। শুক্রবার ভোটাভুটির পরই স্পষ্ট হয়ে যায়—সরকার প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করতে পারেনি। ভোটাভুটিতে বিলটির পক্ষে ২৯৮টি ভোট পড়লেও বিপক্ষে যায় ২৩০টি ভোট। মোট ৫২৮ জন সাংসদ অংশ নিলেও, বিল পাসের জন্য দরকার ছিল দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ অন্তত ৩৫২টি ভোট। সেই সংখ্যায় পৌঁছতে ব্যর্থ হওয়ায় বিলটি বাতিল হয়ে যায়।

গত দুদিন ধরে লোকসভায় এই বিল নিয়ে তুমুল বিতর্ক, অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ চলে। বিরোধীরা অভিযোগ তোলে, মহিলাদের ক্ষমতায়নের নামে বিজেপি আসলে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে। পাল্টা হিসেবে শাসকদল বিরোধীদের ‘মহিলা বিরোধী’ বলে আক্রমণ করে। ভোটাভুটির ফল প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “মোদি-শাহ যুগের শেষের শুরু।” একইভাবে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র মন্তব্য করেন, বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের ফলেই এই বিল রোখা সম্ভব হয়েছে। সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শতাব্দী রায়ও বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, মহিলাদের সামনে রেখে নির্বাচনী সমীকরণ সাজানো হচ্ছে। বিলটি পাস না হওয়ায় বিরোধী শিবিরে স্বস্তির সুর শোনা গেছে। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) শুরু থেকেই এই বিলের বিরোধিতা করেছিলেন, তাঁকেও অভিনন্দন জানান সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব (Akhilesh Yadav)।

এই বিলটি ছিল সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী প্রস্তাব, যার মাধ্যমে লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভাগুলিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছিল। ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ নামে পরিচিত এই প্রস্তাবে আগে বলা হয়েছিল, জনগণনা ও আসন পুনর্বিন্যাসের পরেই সংরক্ষণ কার্যকর হবে। তবে বর্তমানে সেই প্রক্রিয়ার অপেক্ষা না করেই বিলটি কার্যকর করার চেষ্টা করা হচ্ছিল বিজেপি সরকার।