দেশের প্রথম সারির শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খড়গপুর আইআইটিতে (IIT, Kharagpur) আবারও এক পড়ুয়ার রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া ও তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। হস্টেলের আটতলা থেকে নীচে পড়ে মৃত্যু হয়েছে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এক তৃতীয় বর্ষের ছাত্রের। পড়ুয়া কী কারণে এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হল তা এখনও জানা যায়নি। মৃত পড়ুয়ার সহপাঠীদের জেরা করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পড়ুয়াদের মধ্যে। দেশের প্রথম সারির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এইরকম বারবার মৃত্যুর ঘটনায় পড়ুয়াদের সুরক্ষা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। এই ঘটনা দুর্ঘটনা নাকি আত্মহত্যা, তা নিয়ে দানা বেঁধেছে রহস্য। ইতিমধ্যেই অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও আইআইটি সূত্রে খবর, শনিবার সকালে অটল বিহারী বাজপেয়ী হলের সামনে এক ছাত্রকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন আবাসিকরা। দ্রুত খবর দেওয়া হয় হিজলি পুলিশ ফাঁড়িতে। খড়গপুর টাউন থানার পুলিশ এসে তড়িঘড়ি উদ্ধার করে তাঁকে বিসি রায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃত ছাত্রের নাম জয়বীরসিংহ ডোডিয়া। তার বয়স ২১ বছর। তিনি গুজরাতের আমেদাবাদের বাসিন্দা ছিলেন এবং আইআইটি খড়গপুরে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন। যদিও তিনি নেহরু হলের আবাসিক ছিলেন, তবে কেন তিনি অটল বিহারী বাজপেয়ী হলে গিয়েছিলেন এবং সেখান থেকেই বা কেন ঝাঁপ দিলেন, তা নিয়ে দানা বেঁধেছে রহস্য।
গত ১৬ মাসে এই নিয়ে ৮ জন পড়ুয়ার মৃত্যু হল খড়গপুর আইআইটিতে। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। চলতি বছরেও এই ধারা অব্যাহত থাকায় আইআইটি-র অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠছে। একের পর এক ছাত্রের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার বা ঝাঁপ দেওয়ার ঘটনায় ক্যাম্পাসে ছড়িয়েছে আতঙ্ক। পুলিশ মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং ছাত্রের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। পড়াশোনার অতিরিক্ত চাপ, নাকি অন্য কোনও ব্যক্তিগত কারণ এই মর্মান্তিক পরিণতির পেছনে দায়ী, ঘটনার সময় তিনি একাই ছিলেন নাকি অন্য কেউ সঙ্গে ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ হস্টেল চত্বরের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। তবে এই মর্মান্তিক ঘটনা নিয়ে এখনও পর্যন্ত খড়গপুর আইআইটি কর্তৃপক্ষের কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।




