Header AD
Trending

৫২ সেকেন্ডের কম্পনে ত্রস্ত তিলোত্তমা, আতঙ্কে রাস্তায় নামে মানুষ! উৎস বাংলাদেশের খুলনা

শুক্রবার দুপুর ১টা ২২ মিনিট নাগাদ আচমকাই কেঁপে উঠল কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের উৎস ছিল বাংলাদেশের খুলনা, যা কলকাতা থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরে। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ৫.৫ বলে জানিয়েছে ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি। কেন্দ্রস্থল ছিল মাটি থেকে প্রায় ৯–১০ কিলোমিটার গভীরে। শহরে প্রায় ৫২ সেকেন্ড ধরে কম্পন অনুভূত হয়।

হঠাৎ কম্পনে বহুতল আবাসন, অফিস ও বিপণি থেকে আতঙ্কিত মানুষজন দ্রুত নীচে নেমে আসেন। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় কম্পন টের পাওয়া যায়। মেদিনীপুর শহরে জেলা শাসকের দফতরেও কর্মীরা বাইরে বেরিয়ে আসেন। বহু জায়গায় সিলিং ফ্যান দুলতে দেখা যায়, আবাসনের দেওয়ালে কম্পন অনুভূত হয়। কলকাতার গণেশচন্দ্র অ্যাভিনিউ এলাকায় একটি পুরনো বাড়ি হেলে পড়ার খবর মিলেছে। তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির বা হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি। সামাজিক মাধ্যমে কম্পনের একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

ভূমিকম্পের প্রভাব রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তেও পড়ে। টাকি থেকে খুলনার দূরত্ব কম হওয়ায় সেখানেও কম্পন ছিল স্পষ্ট। হাওড়া ও হুগলিতেও বহু মানুষ ঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। দোকান-বাজারেও সাময়িক আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। উল্লেখ্য, একই দিন দুপুরের কিছু আগে সিকিমে ২.৪ মাত্রার একটি মৃদু ভূমিকম্প হয়, যদিও সেখানে ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই।

এর আগে ৩ ফেব্রুয়ারি রাতেও কলকাতায় কম্পন অনুভূত হয়েছিল, যার উৎসস্থল ছিল মায়ানমার এবং মাত্রা ছিল ৬। গত বছরের নভেম্বর মাসেও বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছিল দক্ষিণবঙ্গে। সাম্প্রতিক এই ধারাবাহিক কম্পনে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়ছে শহরবাসীর মধ্যে।